Published in ABP 25th October 2026
এমন এক দেশে চলুন, যে দেশ
সমস্ত ক্ষতকে করে তুলেছে বিস্ময়
ভিয়েতনাম
এগ কফি?
ভিয়েতনামে প্রথম বার এগ কফির অর্ডার দেওয়ার সময় মনে একটু দ্বিধা ছিল। ডিম আর কফি! একসঙ্গে? আর এই কফিই নাকি গোটা বিশ্বের অন্যতম আলোচিত পানীয়! কিন্তু এক চুমুক সেই ঘন, মোলায়েম, অনেকটা কাস্টার্ডের মতো পানীয়তে চুমুক দিতেই ধারণা বদলে গেল। ভিয়েতনামকে আমার কাছে যে বিষয়টি সবচেয়ে ভালোভাবে চেনায়, তা হল এই দেশ বারবার অবাক করে। প্রতিটি বাঁকে যেন অপেক্ষা করে থাকে নতুন কোনও চমক।
এ দেশে ঘুরতে ঘুরতে অন্তত দশ রকমের কফি চেখে দেখেছি। নারকেলের কফি থেকে নুন দিয়ে তৈরি কফি, আবার একেবারে সাধারণ অথচ অসাধারণ স্বাদের ভিয়েতনামিজ আইসড কফি— কা ফে সুয়া দা (cà phê sữa đá)। শেষেরটি এখনও আমার সবচেয়ে প্রিয়। কড়া, মিষ্টি, ঠান্ডা আর স্বাদে একেবারেই ভিয়েতনামি! তবে কফির স্বাদের বাইরেও এ দেশে আবিষ্কারের জন্য ছড়িয়ে রয়েছে আরও কত কিছু।
ভিয়েতনাম এক আশ্চর্য সমন্বয়— নাটকীয় প্রাকৃতিক দৃশ্য, শতাব্দীপ্রাচীন ইতিহাস, প্রাণচঞ্চল শহর আর উষ্ণ হৃদয়ের, প্রতিকূলতাকে জয় করতে জানা মানুষের দেশ। হা লং বে-র বিস্ময়কর চুনাপাথরের পাহাড়ের সারির মধ্যে দিয়ে ক্রুজে ভেসে চলুন, রঙিন লণ্ঠনের আলোয় সাজানো হোই আনের পথে পথে ঘুরে বেড়ান, হ্যানয় ও হো চি মিন সিটির ব্যস্ত জীবনের স্পন্দন অনুভব করুন, কিংবা চলে যান সাপার পাহাড়ি উপত্যকা ও ধাপে ধাপে নেমে আসা ধানখেতের দেশে। এর পাশাপাশি গড়ে উঠছে আর এক নতুন ভিয়েতনাম। দা নাং-এ বিখ্যাত গোল্ডেন ব্রিজটি যেন পাহাড়ের অনেকটা উপরে দু’টি বিশাল পাথরের হাতের তালুতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অন্য দিকে, ফু কুওক দ্বীপে নির্মল সমুদ্রসৈকতের পাশে গড়ে উঠেছে আড়ম্বরপূর্ণ রিসর্ট, বিনোদন পার্ক এবং ভূমধ্যসাগরীয় ও ভেনিসের স্থাপত্যশৈলীতে অনুপ্রাণিত অসাধারণ সব নির্মাণ।
তবু সব শেষে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি মনে থেকে যায়, তা হল ভিয়েতনামের প্রাণশক্তি। যুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসলীলা সহ্য করেছে এই দেশ। অথচ আজকের ভিয়েতনামে চোখে পড়ে আশাবাদ, উদ্যোগী মনোভাব আর অতিথি আপ্যায়নের অসাধারণ উষ্ণতা। তার সঙ্গে যদি যোগ করেন সুস্বাদু খাবার, নানা রকমের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল, মনোরম সমুদ্রতট, উন্নত মানের হোটেল এবং খরচের তুলনায় দারুণ সব অভিজ্ঞতা, তা হলে বুঝতে অসুবিধে হয় না কেন ভারতীয় পর্যটকদের কাছে ভিয়েতনাম ক্রমশ এত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
তাই ভিয়েতনামে আসুন খিদে নিয়ে, আসুন নতুন কিছু জানার কৌতূহল নিয়ে, আর অবশ্যই তৈরি থাকুন প্রচুর কফি পান করার জন্য। কারণ, ভিয়েতনামের এক অদ্ভুত ক্ষমতা আছে— আপনি যতটা আশা করে আসবেন, এই দেশ আপনাকে উপহার দেবে তার চেয়েও অনেক বেশি।
ভীণা ওয়ার্ল্ড
সিনিয়র স্পেশ্যাল
জীবনের সোনালি সময়ে, ডাকছে ভিয়েতনাম!
ইতিহাসের বইয়ে ভিয়েতনামের কথা পড়েছি। কিন্তু এক বার ঘুরে এলেই বুঝবেন, এ এমন এক দেশ, যার সঙ্গে বন্ধুত্ব থেকে যায় আজীবন! ভীণা ওয়ার্ল্ডের ৮ দিনের সিনিয়রস স্পেশ্যাল ভিয়েতনাম এবং ১১ দিনের সিনিয়রস স্পেশ্যাল ভিয়েতনাম কম্বোডিয়া ট্যুরে হা লং বে-র পান্না-সবুজ দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে দিয়ে ক্রুজে ভেসে চলুন, হ্যানয়ের ওয়ান পিলার প্যাগোডা দর্শন করুন, হোই আনের লণ্ঠনের আলোয় সাজানো অলিগলিতে ঘুরে বেড়ান, বা বা না পাহাড়ের গোল্ডেন ব্রিজে দাঁড়িয়ে ছবি তুলুন। আর মুগ্ধ হয়ে দেখুন আঙ্কোর ওয়াটের অপূর্ব স্থাপত্য।
সঙ্গে থাকছে জলপুতুলের শো, স্থানীয় খাবারের স্বাদ আর সমমনস্ক সহযাত্রীদের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠার আনন্দময় সন্ধ্যা। প্রতিটি খুঁটিনাটির দায়িত্বে থাকবেন ট্যুর ম্যানেজার। ফলে আপনিও নিশ্চিন্তে, মন খুলে উপভোগ করতে পারবেন ভ্রমণের প্রতিটি মুহূর্ত।
তা হলে আর ‘কোনও এক দিন’-এর অপেক্ষা কেন? সঙ্গী করুন জীবনসঙ্গী ও বন্ধুদের, আর আবিষ্কার করুন আপনাদের জন্য সাজানো এক নতুন ভিয়েতনাম।
চলো, ব্যাগ ভরো, বেরিয়ে পড়ো!
ভীণা ওয়ার্ল্ড ট্যুর ম্যানেজার
ভিয়েতনাম যেন এক গল্প, যার প্রতিটি পাতায় পান্না-সবুজ জলরাশি, আলোয় ঝলমলে লণ্ঠন আর ধোঁয়া ওঠা ফো-র বাটি। কিন্তু সেই গল্পের কিংবদন্তি, ইতিহাস আর সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হলে ভ্রমণ হয়ে ওঠে আরও অর্থবহ। হ্যানয়ের হাজার বছরের পুরনো অলিগলি থেকে হা লং বে-র চুনাপাথরের দ্বীপপুঞ্জ, হোই আনের লণ্ঠন-আলোয় মোড়া সন্ধ্যা থেকে মেকং বদ্বীপের ভাসমান জীবন— প্রতিটি অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলতে আমি থাকব আপনার সঙ্গে।
সূর্যাস্ত দেখার সেরা জায়গা, ছবি তোলার আদর্শ স্পট, দীর্ঘ দিনের ভ্রমণের পর ভারতীয় খাবার, কেনাকাটার কাজে লাগার মতো পরামর্শ আর নিখুঁত পরিকল্পনা— সব মিলিয়ে আপনার সফর হয়ে উঠবে আরামদায়ক ও আনন্দময়। আর সত্যি বলতে কী, কুয়াশার আড়াল থেকে প্রথম দ্বীপটি যখন ধীরে ধীরে ভেসে ওঠে, তখন আপনাদের চোখেমুখে যে বিস্ময় আর আনন্দের ঝিলিক দেখি, সেটাই আমার সবচেয়ে প্রিয় মুহূর্ত।
তাই ভীণা ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আমার হাত ধরে আবিষ্কার করুন ভিয়েতনামকে, নতুন করে, আরও কাছ থেকে!
চলো, ব্যাগ ভরো, বেরিয়ে পড়ো!
ড্রাগন, লণ্ঠন, কফি...
কিংবদন্তি ও সংস্কৃতি — ভিয়েতনামের সংস্কৃতিতে ড্রাগন সমৃদ্ধি, ক্ষমতা ও সৌভাগ্যের প্রতীক। মন্দির, স্থাপত্য ও লোককথায় আজও তার উপস্থিতি চোখে পড়ে। দা নাং-এর বিখ্যাত ড্রাগন ব্রিজ এই ঐতিহ্যেরই আধুনিক নিদর্শন। হোই আনের মাসিক লণ্ঠন উৎসবে সুন্দর ভাবে প্রতিফলিত হয় ভিয়েতনামের বিশ্বাস ও ঐতিহ্য। এখানকার রাস্তাঘাট, চত্বর ও বাজারেও ফুটে ওঠে স্থানীয় সংস্কৃতির নানা দিক।
প্রকৃতির নানা রূপ — উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত ভিয়েতনামে রয়েছে ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের বিপুল সমাহার— পাহাড়ের সারি, সবুজ ধানখেত, নদী, সমুদ্রসৈকত আর প্রাণচঞ্চল শহর। হা লং বে-র চুনাপাথরের দ্বীপপুঞ্জ থেকে দা নাং-এর সমুদ্রসৈকত, কিংবা ফু কুওক দ্বীপ— প্রতিটি অঞ্চলেরই রয়েছে নিজস্ব আকর্ষণ। তাই অঞ্চলভেদে বদলে যায় খাবারের স্বাদ, জীবনযাত্রা এবং ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও।
রণক্ষেত্র থেকে পর্যটন মানচিত্রে
বিংশ শতাব্দীতে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিপুল প্রাণহানির সাক্ষী থেকেছে ভিয়েতনাম। সেই যুদ্ধ দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ভৌত কাঠামোয় গভীর ক্ষতচিহ্ন রেখে গিয়েছে। আজ হো চি মিন সিটি ঘুরে দেখলে কিংবা ওয়ার রেমন্টস মিউজিয়ামে গেলে সেই সময়ের নানা স্মৃতি ও শিক্ষা সামনে আসে। কু চি সুড়ঙ্গগুলি সাক্ষ্য দেয় যুদ্ধের দিনগুলিতে স্থানীয় মানুষের উদ্ভাবনী ক্ষমতা, অধ্যবসায় ও সংগ্রামের। আজ শিক্ষা, শিল্প, পরিকাঠামো ও পর্যটনের অগ্রগতির হাত ধরে হো চি মিন সিটির মতো শহর হয়ে উঠেছে আধুনিক ভিয়েতনামের প্রতীক।
খাদ্যসংস্কৃতি
ভিয়েতনামের খাদ্যসংস্কৃতিতে তাজা উপকরণ, স্বাদের ভারসাম্য এবং স্থানীয় ঐতিহ্যের অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটেছে। দেশটির সবচেয়ে বিখ্যাত খাবার ‘ফো’। হ্যানয়ের আর এক জনপ্রিয় পদ ‘বুন চা’। গ্রিল করা শূকরের মাংস, নুডলস ও তাজা সুগন্ধি শাকপাতা দিয়ে তৈরি এই পদটি স্বাদে অতুলনীয়। এ ছাড়াও চেখে দেখতে ভুলবেন না ফরাসি ও ভিয়েতনামি খাদ্যসংস্কৃতির মেলবন্ধনে তৈরি ‘বান মি’, হোই আনের বিশেষ নুডলসের পদ ‘কাও লাউ’, ‘স্প্রিং রোল’ এবং মুচমুচে ‘বান সিয়ো’। তাজা সব্জি, সুগন্ধি শাকপাতা ও হালকা স্বাদের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার খাবারে গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে মাছ, চিংড়ি ও নানা ধরনের সামুদ্রিক খাদ্যের। ‘এগ কফি’ এবং ‘ভিয়েতনামিজ আইসড কফি’ ইতিমধ্যেই সারা বিশ্বের খাদ্যরসিকদের মন জয় করেছে। রাস্তার ধারের ছোট্ট কোনও ক্যাফেতে বসে কফির কাপে চুমুক দেওয়াও ভিয়েতনামের সংস্কৃতিকে চেনার এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
ভিয়েতনামের স্বাদে-গন্ধে
ভিয়েতনামে এমন অনেক কিছুই রয়েছে, যা সে দেশের সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। এখান থেকে সবচেয়ে জনপ্রিয় কেনাকাটার সামগ্রী হল ভিয়েতনামি কফি। কিনতে ভুলবেন না রোবাস্তা কফি, এগ কফির মিশ্রণ, নারকেলের কফি, ঐতিহ্যবাহী ফিন ফিল্টার, কাজুবাদাম, পদ্মবীজের নোনতা-মিষ্টি স্ন্যাকস, নারকেলের টফি, ভিয়েতনামি গোলমরিচ, তারা মৌরি, দারুচিনি এবং বিভিন্ন ধরনের চায়ের মিশ্রণ। হোই আন বিখ্যাত মাপমতো পোশাক তৈরির জন্য। এখানে মাত্র ২৪–৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিজের মাপ অনুযায়ী স্যুট, ব্লেজার, পোশাক কিংবা ঐতিহ্যবাহী ‘আও দাই’ তৈরি করিয়ে নিতে পারেন। এ ছাড়াও স্মারক হিসেবে জনপ্রিয় ‘নন লা’ টুপি, রেশমের লণ্ঠন, সূচিশিল্পের কাজ করা ব্যাগ, বাঁশ ও বেতের হস্তশিল্প, ল্যাকারওয়্যার এবং ফু কুওকের বিখ্যাত ফিশ সস। কেনাকাটার জন্য হ্যানয়ের ওল্ড কোয়ার্টার, হো চি মিন সিটির বেন থান মার্কেট, হোই আন নাইট মার্কেট এবং দা নাং-এর হান মার্কেট বেশ জনপ্রিয়। এখানে মিলবে নানা ধরনের স্মারক, হস্তশিল্প, ফ্যাশনের অনুষঙ্গ এবং স্থানীয় পণ্য। ফলে ভিয়েতনামের স্বাদ, রং আর স্মৃতির এক টুকরো পৃথিবী সঙ্গে নিয়েই দেশে ফিরতে পারবেন।
নতুন ট্রেন্ড: দর্শনীয় স্থানের বাইরেও ভিয়েতনাম
আজ ভিয়েতনামে শুধু বিখ্যাত দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার চেয়ে অভিজ্ঞতানির্ভর ভ্রমণের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা, রাস্তার ধারের খাবারের স্বাদ নেওয়া, ছোট ক্যাফেতে বসে কফিতে চুমুক দেওয়া, লণ্ঠনের আলোয় হোই আনকে আবিষ্কার করা এবং স্থানীয় জীবনযাত্রার সঙ্গে মিশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা ভ্রমণকে দেয় অন্য মাত্রা। ফলে ভিয়েতনাম এখন আর শুধু দর্শনীয় স্থানের গন্তব্য নয়, বরং হস্তশিল্প, খাদ্যসংস্কৃতি এবং স্থানীয় জীবনযাপনের নানা অভিজ্ঞতার এক ক্রমবর্ধমান মিলনক্ষেত্র।
ভিয়েতনাম এখন ট্রেন্ডিং, আর ভীণা ওয়ার্ল্ড দেখাচ্ছে পথ!
ভিয়েতনাম নিয়ে এখন সর্বত্র আলোচনা। এ বার আপনার পালা, নিজের মতো করে ভিয়েতনামের গল্প লেখার। প্রত্যেক পর্যটকের কাছে ভিয়েতনামকে ঘিরে স্বপ্ন আলাদা। তাই আপনার বিভিন্ন চাহিদার কথা মাথায় রেখে ভীণা ওয়ার্ল্ড নিয়ে এসেছে কাস্টমাইজড হলিডে, কর্পোরেট ও মাইস ট্যুর, গ্রুপ ট্যুর এবং সিনিয়রস স্পেশ্যাল ট্যুরের নানা আয়োজন।
কাস্টমাইজড ট্যুর — কেউ হ্যানয়ের জমজমাট ওল্ড কোয়ার্টারে কেনাকাটা করতে চান, কেউ লণ্ঠনের আলোয় সাজানো হোই আনে কাটাতে চান নিরিবিলি সন্ধ্যা, আবার কেউ ফু কুওকের সমুদ্রসৈকতে নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নিতে চান। ভীণা ওয়ার্ল্ডের কাস্টমাইজড হলিডে ঠিক এই চাহিদাগুলির কথা মাথায় রেখেই সাজানো। আমাদের ৯ দিনের ‘বেস্ট অফ ভিয়েতনাম’ কাস্টমাইজড হলিডেতে রয়েছে চারটি শহর ঘোরার সুযোগ। অন্য দিকে, ৫ দিনের ‘হ্যানয় হা লং’ কিংবা ‘ভিয়েতনাম— ফু কুওক গেটঅ্যাওয়ে’ ছোট ছুটির জন্য আদর্শ। আপনার পছন্দ অনুযায়ী ঠিক করে নিন গন্তব্য, কোথায় কত দিন থাকবেন এবং কী কী অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করবেন। ভ্রমণ হোক একান্তই আপনার নিজের মতো।
মাইস ট্যুর — কাজের প্রয়োজনে বিদেশে যাচ্ছেন, পাশাপাশি সেই দেশের সংস্কৃতি ও দর্শনীয় স্থানগুলিও ঘুরে দেখতে চান? সে ক্ষেত্রে মাইস ট্যুর হতে পারে একটি বিশেষ বিকল্প। কর্পোরেট মিটিং, ইনসেনটিভ ট্রাভেল, সম্মেলন ও প্রদর্শনীর পরিকল্পনায় সাহায্য করে ভীণা ওয়ার্ল্ডের মাইস টিম। ভিয়েতনামে কর্পোরেট সফরের সঙ্গে জুড়ে নিতে পারেন হো চি মিন সিটির প্রাণচঞ্চল পরিবেশ, হ্যানয়ের ঐতিহ্য কিংবা দা নাং-এর সমুদ্রসৈকত। যে সফরের শুরু কাজের প্রয়োজনে, সেই সফরই ফিরতি পথে আপনার সঙ্গে নিয়ে আসতে পারে ভিয়েতনামের একরাশ স্মৃতি।
গ্রুপ ট্যুর — প্রথম বার ভিয়েতনাম যাচ্ছেন? ভাষা, খাবারদাবার আর মুদ্রা নিয়ে মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। ভীণা ওয়ার্ল্ডের সর্বাঙ্গীণ গ্রুপ ট্যুরে রয়েছে সুপরিকল্পিত ভ্রমণসূচি, নির্দিষ্ট ইটিনেরারি এবং অভিজ্ঞ ট্যুর ম্যানেজার। ফলে পরিকল্পনার চিন্তা ছেড়ে আপনি শুধু ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। বেছে নিন ৫ দিনের ‘হাইলাইটস অফ ভিয়েতনাম’, ৭ দিনের ‘ভিয়েতনাম সাপা ফু কুওক’, ৮ ও ৯ দিনের ‘বেস্ট অফ ভিয়েতনাম’, কিংবা ১১ ও ১২ দিনের ‘ভিয়েতনাম দা নাং ফু কুওক’ ট্যুর। এক সফরেই দু’টি দেশ ঘুরতে চান? তা হলে ১১ ও ১২ দিনের ‘ভিয়েতনাম কম্বোডিয়া’ ট্যুরে ভিয়েতনামের পাশাপাশি দেখে নিতে পারবেন আঙ্কোর ওয়াট। এই ট্যুরগুলিতে রয়েছে হ্যানয়ের ওয়ান পিলার প্যাগোডা দর্শন, হা লং বে-তে ক্রুজ ভ্রমণ, বা না পাহাড়ের গোল্ডেন ব্রিজ, হোই আন এবং মেকং বদ্বীপের মতো আকর্ষণীয় গন্তব্য।
উইমেনস স্পেশ্যাল — অনেক প্রবীণ পর্যটকেরও স্বপ্ন থাকে ভিয়েতনাম ঘুরে দেখার। কারণ, ভ্রমণের ক্ষেত্রে বয়সের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ নতুনকে আবিষ্কার করার ইচ্ছা ও উদ্যম! ভীণা ওয়ার্ল্ডের ৮ দিনের ‘সিনিয়রস স্পেশ্যাল ভিয়েতনাম’ এবং ১১ দিনের ‘সিনিয়রস স্পেশ্যাল ভিয়েতনাম কম্বোডিয়া’ ট্যুরে প্রবীণ পর্যটকেরা সমমনস্ক একদল সহযাত্রীর সঙ্গে ভ্রমণের সুযোগ পান। নিখুঁত পরিকল্পনা, ট্যুর ম্যানেজারের সঙ্গ এবং সুপরিকল্পিত ভ্রমণসূচি তাঁদের ভিয়েতনামের প্রতিটি মুহূর্ত মন খুলে উপভোগ করতে সাহায্য করে। তাই আপনার পছন্দ ও সুবিধেমতো বেছে নিন ভ্রমণের সেরা বিকল্পটি। ভিয়েতনামকে ঘিরে একরাশ স্মৃতি সঞ্চয়ের পথে এগিয়ে যান প্রথম পদক্ষেপে।
আরে! এ তো জানতামই না!
- হা লং বে-তে রয়েছে ১,৯৬৯টি দ্বীপ ও ছোট দ্বীপ। এর মধ্যে মাত্র প্রায় ৯৮০টির নামকরণ করা হয়েছে।
- বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কফি উৎপাদক দেশ ভিয়েতনাম। রোবাস্তা কফি সরবরাহেও বিশ্বের শীর্ষে এই দেশ।
- দুধের অভাবের সময়ে, ১৯৪৬ সালে হ্যানয়ে এগ কফির উদ্ভাবন হয়েছিল।
- হোই আনের বিখ্যাত জাপানি সেতুর ছবি রয়েছে ২০,০০০ ডংয়ের নোটে।
- ভিয়েতনামে সরকারি ভাবে স্বীকৃত ৫৪টি জাতিগোষ্ঠী রয়েছে। প্রত্যেকেরই নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি।
- ভিয়েতনামের প্লাবিত ধানখেতেই জন্ম হয়েছিল জলপুতুল নাচের।
- হোই আনের কাছে মাই সনের প্রাচীন শিবমন্দিরগুলি চম্পা রাজাদের আমলে নির্মিত। সেগুলির সংস্কারকাজে সাহায্য করেছে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ বিভাগ।
- মধ্য ভিয়েতনামের সন ডুং পৃথিবীর বৃহত্তম পরিচিত গুহা। এতটাই বিশাল যে এর ভিতরে অনায়াসে জায়গা হতে পারে একাধিক আকাশছোঁয়া অট্টালিকার!
- ভিয়েতনামের চান্দ্র নববর্ষ ‘টেট’ সে দেশের সবচেয়ে বড় উৎসব।
- কু চি সুড়ঙ্গের গভীরে, মাটির তলায় লুকিয়ে ছিল রান্নাঘর, বৈঠকখানা, এমনকি হাসপাতালও।
এক দেশ,
তিন রকম অভিজ্ঞতা
উত্তর ভিয়েতনাম — ইতিহাস, প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন: এই অঞ্চল ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রকৃতির এক অপূর্ব সমন্বয়। রাজধানী হ্যানয়ে ধরা পড়ে দেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার। হা লং বে-র সমুদ্রের বুক চিরে জেগে ওঠা চুনাপাথরের অপূর্ব দ্বীপপুঞ্জ সারা বিশ্বের পর্যটকদের আকর্ষণ করে। অন্য দিকে, সাপার সবুজ ধানখেত তুলে ধরে গ্রামীণ ভিয়েতনামের মনোরম রূপ।
মধ্য ভিয়েতনাম — সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সমুদ্রসৈকতের আকর্ষণ: ভিয়েতনামের সবচেয়ে বর্ণময় ও বৈচিত্র্যময় অঞ্চলগুলির অন্যতম মধ্য ভিয়েতনাম। দা নাং-এর সুন্দর সমুদ্রসৈকত ও আধুনিক আকর্ষণ, হোই আনের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যে সাজানো লণ্ঠনের আলোয় ঝলমলে রাস্তা এবং হুয়ে-র রাজকীয় ইতিহাস এই অঞ্চলকে দিয়েছে স্বতন্ত্র পরিচয়। এখানে পুরনো ও নতুন, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার অপূর্ব মেলবন্ধন অনুভব করা যায়।
দক্ষিণ ভিয়েতনাম — আধুনিকতার গতি ও নদীকেন্দ্রিক জীবন: দক্ষিণ ভিয়েতনাম হল দ্রুতগতির, আধুনিক ভিয়েতনাম। হো চি মিন সিটি দেশের অর্থনৈতিক কেন্দ্র। এখানকার ব্যস্ত রাস্তাঘাটে স্পন্দিত হয় আধুনিক ভিয়েতনামের প্রাণ। অন্য দিকে, মেকং বদ্বীপের নৌকাকেন্দ্রিক জীবন, ভাসমান বাজার ও নদীকে ঘিরে গড়ে ওঠা সংস্কৃতি এনে দেয় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা।
ভিয়েতনামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল তার তিনটি অঞ্চলের স্বতন্ত্র চরিত্র। এক সফরেই যেন ঘুরে দেখা যায় তিনটি আলাদা দেশ!
...কম্বোডিয়ার সঙ্গে
এক সফরেই দু’টি দেশ ঘুরে দেখতে চাইলে বেছে নিতে পারেন ভিয়েতনাম-কম্বোডিয়া ট্যুর। কম্বোডিয়া গর্বের সঙ্গে সংরক্ষণ করে চলেছে শত শত একর জুড়ে বিস্তৃত প্রাচীন মন্দিরের সমাহার। এই সফরে কম্বোডিয়ার সিয়েম রিপ ঘুরে দেখার পাশাপাশি পাবেন বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় মন্দির-চত্বর আঙ্কোর ওয়াটের ঐতিহ্যকে কাছ থেকে জানার সুযোগ। মূলত ভগবান বিষ্ণুর উদ্দেশে নির্মিত হিন্দু মন্দির হিসেবে আঙ্কোর ওয়াটের যাত্রা শুরু। এর বিশাল স্থাপত্য আর পাথরের ভাস্কর্য যেন ইতিহাসকে জীবন্ত করে তোলে। খমের ভাষায় ‘আঙ্কোর’ শব্দটি এসেছে ‘নোকোর’ থেকে, যার অর্থ শহর। আর ‘ওয়াট’ শব্দের অর্থ মন্দির। সেই থেকেই ‘মন্দিরের শহর’ বা ‘টেম্পল সিটি’ নামটি জনপ্রিয় হয়েছে।
এই সফরে ঘুরে দেখবেন সূক্ষ্ম পাথরের কারুকাজের জন্য বিখ্যাত বানতেই শ্রেই মন্দির। উপভোগ করবেন আরামদায়ক ঐতিহ্যবাহী কম্বোডীয় মালিশ এবং রঙিন, মনোমুগ্ধকর অপ্সরা নৃত্য। এ ছাড়াও কম্বোডিয়ার সার্কাসে স্থানীয় শিল্পীদের অসাধারণ প্রতিভা, শারীরিক কসরত এবং কম্বোডিয়ার নানা কাহিনি মঞ্চে জীবন্ত হয়ে ওঠে।
প্রাচীন মন্দির, সংস্কৃতি, শিল্পকলা ও বিনোদনের এমন সুন্দর মেলবন্ধনে কম্বোডিয়া ভ্রমণ হয়ে ওঠে এক অনন্য অভিজ্ঞতা, যা ভিয়েতনাম-কম্বোডিয়া সফরকে করে তোলে পরিপূর্ণ।




























Post your Comment
Please let us know your thoughts on this story by leaving a comment.