Published in ABP 11th October 2026
প্রকৃতির বর্ণময় উৎসবে একেবারে প্রথম সারির আসন থেকে সাক্ষী থাকুন...
চলুন, জাপান যাই!
কোয়ো ডাকছে
সম্প্রতি নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়ার এক মন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় ট্যুর কোম্পানির প্রতিনিধিদের একটি বৈঠকে যোগ দিয়েছিলাম। পর্যটন নিয়ে আমাদের আলোচনার মাঝেই তিনি একটি সহজ প্রশ্ন করলেন—এই মুহূর্তে ভারতীয় ভ্রমণকারীদের মধ্যে কোন আন্তর্জাতিক গন্তব্য নিয়ে অসাধারণ আগ্রহ তৈরি হয়েছে? টেবিলজুড়ে উত্তর এল একসঙ্গে, কোনও দ্বিধা ছাড়াই—জাপান। আর কেন এমনটা হচ্ছে, তা আমি খুব সহজেই বুঝতে পারি।
বয়সের কোনও সীমারেখা ছাড়াই জাপান যেন প্রত্যেক ধরনের ভ্রমণকারীকেই নিজের দিকে টানে। অবশ্যই রয়েছে তার অনন্য খাদ্যসংস্কৃতি ও পপ কালচার; কিন্তু তার পাশাপাশি রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য, বিস্ময়কর প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং জীবনকে দেখার এমন এক দর্শন, যা একান্তই জাপানি। একই বিকেলে এই দেশকে মনে হতে পারে একেবারে ভবিষ্যতের পৃথিবী, আবার সেই একই সময়ে তার কোনও প্রাচীন মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে মনে হতে পারে আপনি কয়েক শতাব্দী পিছিয়ে গিয়েছেন।
তবে জাপান থেকে আমার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটি ফিরে আসে, তা হল সেখানকার মানুষ। আমার বিশ্বাস, ভ্রমণ আমাদের সাময়িকভাবে হলেও অনুভব করার সুযোগ দেয়—অন্য কোনও দেশে সত্যিই যদি আমরা বসবাস করতাম, কেমন হত সেই জীবন। আর সেই দেশের মানুষের সঙ্গে যে সংযোগ ভ্রমণ আমাদের তৈরি করে দেয়, কোনও বই, সিনেমা কিংবা ইনস্টাগ্রামের রিল ঠিক সেই অনুভূতিটা দিতে পারে না। জাপানে একবার পথ হারিয়ে আমি এক মহিলাকে দাঁড় করিয়ে রাস্তার ঠিকানা জানতে চেয়েছিলাম। তিনি শুধু আঙুল তুলে পথ দেখিয়ে দিয়েই থামেননি; বরং আমার সঙ্গে হাঁটতে শুরু করলেন। যতক্ষণ না তিনি নিশ্চিত হলেন যে আমি ঠিক কোথায় যাচ্ছি এবং আমার গন্তব্যের পথটি ভালোভাবে বুঝে নিয়েছি, ততক্ষণ তিনি আমার পাশ ছাড়েননি। হয়তো খুব ছোট্ট একটি ঘটনা। কিন্তু আজও সেই মুহূর্তটি আমার মনে রয়ে গেছে।
আমার আগের জাপান সফরটি ছিল শীতকালে। ঠান্ডা ছিল, কিন্তু অভিজ্ঞতাটি ছিল অসাধারণ। বহু বছর ধরে আমাদের ভারতীয়দের কাছে জাপান মানেই যেন বসন্তের বিখ্যাত চেরি ব্লসম। কিন্তু আজ জাপান হয়ে উঠেছে সারা বছরের গন্তব্য, আর শরৎকাল সম্ভবত তার সবচেয়ে বর্ণময় ও চমকপ্রদ ঋতুগুলির একটি।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকেই জাপানজুড়ে শরতের আগমন শুরু হয়। উত্তরের অপেক্ষাকৃত শীতল অঞ্চল থেকে ধীরে ধীরে সেই রঙিন ঋতু এগিয়ে আসে দক্ষিণের দিকে। তাপমাত্রা কমতে শুরু করলে পাতার ক্লোরোফিল ভেঙে যায়, আর তখন পাতার মধ্যে লুকিয়ে থাকা অন্যান্য রঞ্জক পদার্থগুলি নিজেদের রং প্রকাশ করার সুযোগ পায়। সবুজ ধীরে ধীরে সরে গিয়ে
জায়গা করে নেয় উজ্জ্বল হলুদ, পোড়া কমলা, গাঢ় রক্তিম লাল এবং তামাটে-বাদামি রংকে।
জাপানিরা শরতের এই রঙিন পাতাকে বলেন ‘কোয়ো’ (Kōyō), আর ‘মোমিজিগারি’ (Momijigari) শব্দটির আক্ষরিক অর্থ ‘শরতের পাতা খুঁজে বেড়ানো’ বা ‘শরতের রং শিকার করা’। কিন্তু এটি শুধু সুন্দর গাছের ছবি তোলার বিষয় নয়। ক্ষণস্থায়ী সৌন্দর্যের সামনে থেমে গিয়ে তাকে মন দিয়ে অনুভব করার মধ্যে যে গভীরতা, তার সঙ্গে জাপানি সংস্কৃতির এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জাপানিদের ক্ষণস্থায়িত্বের বোধ—এই উপলব্ধি যে কোনও কিছু চিরস্থায়ী নয়, আর কোনও সৌন্দর্য চিরকাল একইভাবে থেকে যায় না। বরং ঠিক এই কারণেই, তার চলে যাওয়ার সম্ভাবনা তাকে আরও মূল্যবান করে তোলে।
ভাবুন, আগুনরঙা ম্যাপল গাছের ফ্রেমে বাঁধানো কিয়োটোর প্রাচীন মন্দির, সোনালি পাতায় ঢেকে যাওয়া পাহাড়ি রাস্তা, বিকেলের নরম আলোয় দীপ্ত ঐতিহ্যবাহী জাপানি উদ্যান, আর হাঁটার জন্য আদর্শ নির্মল, আরামদায়ক শরতের দিন। চেরি ব্লসম হয়তো পৃথিবীর সামনে জাপানের ঋতুর সৌন্দর্যের প্রথম দরজা খুলে দিয়েছিল, কিন্তু শরৎ যেন উন্মোচন করে সম্পূর্ণ অন্য এক জাপানকে—আরও নীরব, আরও সমৃদ্ধ, তীব্র রঙে আরও জীবন্ত। আর আমার কাছে, এই অসাধারণ দেশটিকে অনুভব করার সবচেয়ে সুন্দর সময়গুলির মধ্যে শরৎ নিঃসন্দেহে অন্যতম।
ভীণা ওয়ার্ল্ড
উইমেন্স স্পেশাল
আনন্দের নতুন রং, উদ্যাপনের নতুন কারণ!
জাপান বললেই সাধারণত চোখের সামনে ভেসে ওঠে চেরি ব্লসমের গোলাপি সৌন্দর্য। কিন্তু জাপানের শরৎ যেন সম্পূর্ণ অন্য এক গল্প! শরৎ এলেই সবুজ গাছেরা ধীরে ধীরে সেজে ওঠে লাল, কমলা, হলুদ আর সোনালি রঙে। ভীণা ওয়ার্ল্ডের উইমেন্স স্পেশাল জাপান ট্যুর-এ সেই রঙের উৎসব উপভোগ করার পাশাপাশি ঘুরে দেখুন ঝলমলে টোকিও, প্যানোরমিক মাউন্ট ফুজি, কিয়োটোর ঐতিহাসিক মন্দির, আরাশিয়ামার সবুজ বাঁশবন এবং জাপানের দুরন্ত গতির বুলেট ট্রেন। আর এই রঙিন সফরের সঙ্গে থাকুক ছবি তোলা, শপিং, আড্ডা আর বান্ধবীদের সঙ্গে একের পর এক নতুন অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার আনন্দ। আপনার স্বাচ্ছন্দ্যের দিকেও সবসময় নজর রাখবেন অভিজ্ঞ ট্যুর ম্যানেজার। ফলে জাপানের প্রতিটি রং, প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি অভিজ্ঞতা আপনি উপভোগ করতে পারবেন একেবারে মন ভরে।
তাহলে আর অপেক্ষা কেন? বান্ধবীদের সঙ্গে শরতের রঙে রাঙানো জাপানকে অনুভব করার এটাই তো আদর্শ সময়। চলো, ব্যাগ ভরো, বেরিয়ে পড়ো!
ভীণা ওয়ার্ল্ড ট্যুর ম্যানেজার
জাপানের শরৎ যেন প্রতিদিন বদলে যাওয়া রঙের এক জাদুকরী উপাখ্যান। কিন্তু এই রঙের উৎসবের পিছনে লুকিয়ে থাকা গল্প, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বুঝতে পারলেই ভ্রমণের অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে আরও গভীর, আরও অর্থপূর্ণ। টোকিওর আধুনিক জীবনযাত্রা থেকে কিয়োটোর প্রাচীন মন্দির, মাউন্ট ফুজির ছবির মতো সুন্দর দৃশ্য থেকে নারা ও নিক্কোর শান্ত, স্নিগ্ধ পরিবেশ - প্রতিটি অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলতে আমি থাকব আপনার পাশে। সেরা ভিউপয়েন্ট, ঘোরার সঠিক সময়, মনকাড়া ছবি তোলার জায়গা, স্থানীয় খাবার, জাপানি ঐতিহ্য এবং নিখুঁত পরিকল্পনা - সবকিছুর দিকে খেয়াল রাখব, যাতে আপনার ভ্রমণ হয় স্বচ্ছন্দ, আনন্দময় এবং সারাজীবন মনে রাখার মতো। জাপানে শরৎকে শুধু চোখে দেখা যায় না, তাকে অনুভব করতে হয়। আর সেই অনুভবের প্রতিটি রং, প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি স্মৃতিকে আরও বিশেষ করে তুলতেই আমি থাকব আপনার সঙ্গে।
তাহলে আসুন, আমার সঙ্গে, ভীণা ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে, জাপানের রঙের উৎসবের সাক্ষী হই! চলো, ব্যাগ ভরো, বেরিয়ে পড়ো!
সত্যিই এক আমূল রূপবদল!
জাপানে শরৎ নামলেই প্রকৃতি ধীরে ধীরে যেন তার মঞ্চ সাজাতে শুরু করে। সবুজ পাতারা প্রথমে হলুদ হয়ে ওঠে, তারপর ধীরে ধীরে ছড়িয়ে দেয় কমলা, লাল আর তামাটে রঙের অপূর্ব আভা। পাহাড়, পথ, উদ্যান, মন্দিরচত্বর থেকে হ্রদের পাড়—সবকিছুই এমন বর্ণময় হয়ে ওঠে যে চোখ ফেরানোই কঠিন। জাপানি ভাষায় পাতার এই রঙ বদলের ঋতুকে বলা হয় ‘কোয়ো’ (Koyo)। গোলাপি চেরি ব্লসমের জন্য বিখ্যাত জাপান শরতে যেন সম্পূর্ণ অন্য এক রূপ ধারণ করে—শান্ত, ধীর, স্নিগ্ধ এবং অপার সৌন্দর্যে ভরা। বিশেষ করে কিয়োটোয় প্রাচীন মন্দির, পাথরে বাঁধানো পথ আর লাল-কমলা পাতায় ছেয়ে থাকা গাছপালা মিলেমিশে যেন একটি জীবন্ত জাপানি চিত্রকর্মের জন্ম দেয়। কিয়োমিজু-দেরা, তোফুকু-জি কিংবা আরাশিয়ামার বাঁশবন—সর্বত্রই প্রকৃতি ও স্থাপত্য এক অপূর্ব মেলবন্ধনে ধরা দেয়। পাতার রঙের প্রতিটি পরিবর্তন যেন ঋতুর মেজাজে নতুন এক সুর যোগ করে; আর সেই সুরে ভেসে প্রতিটি মুহূর্তের ভ্রমণ পেয়ে যায় এক অনির্বচনীয় জাদু, যা চিরদিন গভীরভাবে থেকে যায় হৃদয়ের ভিতরে।
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে জাপানি সংস্কৃতির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। ‘মোনো নো আওয়ারে’ (Mono no Aware)-এর ধারণা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সৌন্দর্য ক্ষণস্থায়ী; সুন্দর কিছুই চিরকাল একই রকম থাকে না। তাই প্রতিটি মুহূর্তকে অনুভব করতে হয় মন দিয়ে, সম্পূর্ণভাবে। শরতের রঙিন প্রকৃতি উপভোগ করতে বাইরে বেরিয়ে পড়ার জাপানি ঐতিহ্যকে বলা হয় ‘মোমিজিগারি’ (Momijigari)। প্রতিটি শহর, উদ্যান কিংবা পথ শরতের এই রঙে যেন নিজের আলাদা এক গল্প বলে। কখনও সূর্যের আলোয় ঝলমল করে ওঠা পাতার সৌন্দর্য, কখনও বা স্থির জলের বুকে তাদের রঙিন প্রতিবিম্ব—প্রতিটি মুহূর্তেই শরৎ যেন নতুন একটি দৃশ্যপট আঁকে, আর মুগ্ধ করে হৃদয়কে। তাই জাপানে শরৎ শুধু দেখার কোনও ঋতু নয়; বরং পথে পথে ঘুরে, প্রকৃতিকে অনুভব করে, তার সৌন্দর্যের সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে দিয়ে সম্পূর্ণভাবে বেঁচে থাকার এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
ঋতুর এই পরিবর্তন জাপানের খাদ্যসংস্কৃতিকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। শীতল শরতের আবহাওয়ায় মিষ্টি আলু, চেস্টনাট, নানা ধরনের মরসুমি মিষ্টি, ম্যাচা-র স্বাদের নানা পদ এবং ধোঁয়া ওঠা রামেনের স্বাদ যেন আরও বেশি উপভোগ্য হয়ে ওঠে। মন্দিরের সিঁড়িতে নীরবে বসে থাকা, ট্রেনের জানালা দিয়ে রঙিন প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দেখতে এগিয়ে চলা, হাতে গরম চায়ের কাপ নিয়ে শরৎকে অনুভব করা কিংবা নিরিবিলি কোনও পথ ধরে ধীরে ধীরে হেঁটে যাওয়া—এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলিই একসময় হয়ে ওঠে জীবনের বড় বড় স্মৃতি। প্রতিটি বাঁকে অপেক্ষা করে থাকে নতুন কোনও রং, নতুন কোনও দৃশ্য, নতুন কোনও অনুভব। জাপানের শরৎ তাই প্রকৃতির আঁকা এক চিরপরিবর্তনশীল ছবি—যে ছবি একবার দেখার পরও বারবার ফিরে গিয়ে দেখতে ইচ্ছে করে।
হোক্কাইডো: জাপানের সর্বউত্তরের দ্বীপ হোক্কাইডো-কেই মনে করা হয় শরতের প্রথম অভ্যর্থনাকারী। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই এখানকার পাহাড়, আগ্নেয় অঞ্চল ও জাতীয় উদ্যানজুড়ে গাছের পাতা লাল, কমলা ও সোনালি রঙে রাঙতে শুরু করে। বিশেষ করে দাইসেতসুজান ন্যাশনাল পার্ক জাপানের শরতের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত, কারণ দেশের প্রথম শরতের রং এখানেই দেখা যায়। নির্মল বাতাস, শীতল আবহাওয়া এবং চোখজুড়ানো প্রাকৃতিক দৃশ্যের কারণে ‘কোয়ো’, অর্থাৎ শরতের রঙিন পাতার সৌন্দর্য উপভোগের জন্য হোক্কাইডো বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য।
কিয়োটো: নভেম্বরে কিয়োটোয় শরৎ তার পূর্ণ সৌন্দর্যে পৌঁছে যায়। ১,৬০০-রও বেশি বৌদ্ধ মন্দির, জেন উদ্যান এবং শত শত শিন্তো মন্দিরের আশপাশের ম্যাপল ও জিঙ্কো গাছ তখন লাল, কমলা ও সোনালি রঙে জ্বলে ওঠে। আরাশিয়ামার মনোরম উপত্যকা এবং কিয়োমিজু-দেরা, ইকান্দো ও তোফুকু-জিতে ‘মোমিজি’-র রাতের আলোকসজ্জা এই ঋতুর বিশেষ আকর্ষণ। লাল ম্যাপলে ছায়াঘেরা রাস্তা, ঐতিহ্যবাহী সেতু এবং ইতিহাসের সাক্ষী প্রাচীন মন্দির—সব মিলিয়ে শরতের ছবি তোলার জন্য কিয়োটো জাপানের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য।
মাউন্ট ফুজি: জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজি। অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মধ্যে ফুজি ফাইভ লেকস অঞ্চলে শরতের রঙের বিস্তার ঘটে। লেক কাওয়াগুচিকোর তীরে বিখ্যাত মোমিজি করিডর তখন লাল, কমলা ও সোনালি ম্যাপল পাতায় সেজে ওঠে। আর পটভূমিতে তুষারঢাকা ফুজি—তৈরি করে এক অপূর্ব দৃশ্য। হ্রদের জলে ফুজির প্রতিবিম্ব, রোপওয়ে থেকে দেখা বিস্তৃত প্যানোরমিক দৃশ্য এবং আরামদায়ক অনসেন—সব মিলিয়ে প্রকৃতিপ্রেমী, ফটোগ্রাফার ও ভ্রমণকারীদের কাছে শরৎকালে ফুজি অঞ্চল জাপানের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য।
টোকিও: শরৎ এলে টোকিও যেন একেবারে অন্য রঙে সেজে ওঠে। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শহরের জিঙ্কো ও ম্যাপল গাছগুলি সোনালি, লাল ও কমলা রঙে রাঙতে শুরু করে। মেইজি জিঙ্গু গায়েনের দীর্ঘ সড়কটি টোকিওর সবচেয়ে বিখ্যাত শরৎকালীন ফটোস্পটগুলির অন্যতম। প্রায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ এই পথের দু’ধারে রয়েছে প্রায় ১৪৬টি জিঙ্কো গাছ। এছাড়াও উএনো পার্ক, রিকুগিয়েন গার্ডেন, কোইশিকাওয়া কোড়াকুয়েন এবং শোয়া মেমোরিয়াল পার্ক শরতের রঙের অপূর্ব সমারোহে সেজে ওঠে। আধুনিক মহানগরের ব্যস্ত জীবন আর ঋতুর রঙিন সৌন্দর্যের এই অনন্য মেলবন্ধনই টোকিওর শরৎকে করে তোলে বিশেষ।
নিক্কো ও নারা: শরৎকালের সৌন্দর্যের জন্য নিক্কো ও নারা দুই-ই অত্যন্ত জনপ্রিয়। অক্টোবরে নিক্কোর লেক চুজেনজি এবং ৯৭ মিটার উচ্চতার কেগন জলপ্রপাত লাল, কমলা ও হলুদ রঙে যেন জ্বলে ওঠে। এখানেই রয়েছে তোশোগু শ্রাইন, যা ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, জাপানের প্রাচীন রাজধানী নারা নভেম্বরে রঙিন গাছের সাজে আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে। এক হাজারেরও বেশি অবাধে ঘুরে বেড়ানো হরিণের জন্য বিখ্যাত নারা পার্ক শরতে যেন রূপকথার দৃশ্যপট। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ব্রোঞ্জ বুদ্ধমূর্তির আবাস তোদাইজি মন্দির এবং প্রাচীন কাসুগা তাইশা শ্রাইন-ও রঙিন গাছের আবহে আরও অপরূপ হয়ে ওঠে।
হাকোনে – অনসেন: টোকিও থেকে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় হাকোনে-তে, যা জাপানের অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণগন্তব্য। অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এখানকার পাহাড় লাল, কমলা ও সোনালি রঙে সেজে ওঠে। লেক আশি-তে ক্রুজে ভেসে মাউন্ট ফুজির ঝলক পাওয়া এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। হাকোনে রোপওয়ে থেকে সালফারের উপত্যকা এবং শরতের রঙে সেজে ওঠা পাহাড়ের প্যানোরমিক দৃশ্যও এক অনন্য অভিজ্ঞতা। তবে হাকোনের আসল পরিচয় তার বিখ্যাত অনসেন। শরতের রঙে ঘেরা প্রকৃতির মাঝে উষ্ণ প্রস্রবণে শরীর-মন জুড়িয়ে নেওয়া—জাপানি জীবনযাপনের স্বাদ পাওয়ার এমন অভিজ্ঞতা সত্যিই ভোলার নয়।
ইকিগাইয়ের দেশে... ভীণা ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে!
জাপান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সবার জন্য একরকম হতে পারে না। তাই ভ্রমণপিপাসুদের বিভিন্ন চাহিদা ও পছন্দের কথা মাথায় রেখে ভীণা ওয়ার্ল্ড নিয়ে এসেছে কাস্টমাইজড হলিডে, কর্পোরেট ও MICE ট্যুর, গ্রুপ ট্যুর এবং সিনিয়র্স স্পেশাল।
কাস্টমাইজড ট্যুর — প্রত্যেক ভ্রমণকারীর কাছে জাপানকে আবিষ্কারের নিজস্ব একটি স্বপ্ন থাকে। কেউ টোকিওর ব্যস্ত রাস্তায় কেনাকাটার আনন্দ নিতে চান, কেউ কিয়োটোর প্রাচীন মন্দিরে জাপানি সংস্কৃতির গভীরে ডুব দিতে চান, আবার কেউ মাউন্ট ফুজির অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে কাটাতে চান কিছুটা নির্ভার সময়। আর ঠিক এখানেই ভীণা ওয়ার্ল্ডের কাস্টমাইজড হলিডে হয়ে ওঠে আপনার ভ্রমণের আদর্শ সঙ্গী। আমাদের ‘বেস্ট অব জাপান’ কাস্টমাইজড হলিডে-তে ৯ দিনে ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে ৪টি শহর। আপনার পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী আগে থেকেই ঠিক করে নিতে পারেন গন্তব্য, কোথায় কতদিন থাকবেন এবং কোন কোন অভিজ্ঞতা আপনার ভ্রমণের অংশ হবে। অর্থাৎ, কোনও নির্দিষ্ট গ্রুপের বাঁধাধরা সূচির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া নয়—আপনার পছন্দ, আপনার সময়, আপনার অভিজ্ঞতাকেই দেওয়া হবে অগ্রাধিকার।
MICE ট্যুর — ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বিদেশে যাচ্ছেন, অথচ সেই দেশের সংস্কৃতি, আধুনিকতা এবং দর্শনীয় স্থানগুলিও কাছ থেকে অনুভব করতে চান? সে ক্ষেত্রে MICE ট্যুর হতে পারে এক স্বতন্ত্র ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা। কর্পোরেট মিটিং, ইনসেনটিভ ট্রাভেল, সম্মেলন এবং প্রদর্শনীর পরিকল্পনা থেকে শুরু করে পুরো ভ্রমণ-পরিকল্পনায় ভীণা ওয়ার্ল্ডের MICE টিম আপনার পাশে থাকে। প্রযুক্তিনির্ভর জাপানে কর্পোরেট সফরের সঙ্গে অনায়াসেই যুক্ত হতে পারে টোকিওর আধুনিকতা, ওসাকার বৈচিত্র্যময় খাদ্যসংস্কৃতি কিংবা কিয়োটোর ঐতিহ্য ও ইতিহাস। কাজের সূত্রে শুরু হওয়া একটি সফর তাই শেষ হতে পারে জাপানের অসংখ্য স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে।
গ্রুপ ট্যুর — প্রথমবার জাপান যাচ্ছেন? ভাষা, ট্রেনব্যবস্থা কিংবা সম্পূর্ণ ভিন্ন সংস্কৃতি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই মনে তৈরি হতে পারে নানা প্রশ্ন। ভীণা ওয়ার্ল্ডের গ্রুপ ট্যুর সেই চিন্তা অনেকটাই দূর করে দেয়। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, নির্ধারিত ভ্রমণসূচি এবং অভিজ্ঞ ট্যুর ম্যানেজারের উপস্থিতিতে আপনাকে শুধু মন দিতে হবে জাপানের নতুন নতুন অভিজ্ঞতা উপভোগে। বেছে নিতে পারেন ৭ দিনের ‘বেস্ট অব জাপান উইথ নাগোয়া’, ৮ দিনের ‘বেস্ট অব জাপান, ৯ দিনের ‘ওয়ান্ডার্স অব জাপান, অথবা ১০ দিনের ‘মার্ভেলস অব জাপান’ ও ‘জাপান এক্সপ্লোরার’। আরও নিবিড়ভাবে জাপানকে জানতে চাইলে রয়েছে ১৩ দিনের ‘এসেন্স অব জাপান’। এই ট্যুরগুলিতে টোকিওর শিবুয়া ক্রসিং, আসাকুসা ও টোকিও স্কাই ট্রি থেকে শুরু করে মাউন্ট ফুজির কাছে ওশিনো হাক্কাই এবং লেক আশি—জাপানের নানা আকর্ষণীয় গন্তব্য ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে। আর এই সফরের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা অবশ্যই শিনকানসেন বুলেট ট্রেনের যাত্রা - যার গতি ও আরাম, দুটিই জাপানের আধুনিকতার এক অসাধারণ পরিচয়।
সিনিয়র্স স্পেশাল — অনেক প্রবীণ ভ্রমণপিপাসুরই স্বপ্ন থাকে জাপানকে নিজের চোখে দেখার। আর ভ্রমণের ক্ষেত্রে বয়সের চেয়ে নতুন কিছু দেখা, জানা ও অনুভব করার ইচ্ছেটাই তো বেশি গুরুত্বপূর্ণ! ভীণা ওয়ার্ল্ডের ৭ দিনের ‘সিনিয়র্স স্পেশাল জাপান’ ট্যুর-এ প্রবীণ ভ্রমণকারীরা একটি সুন্দর দলের সঙ্গে জাপান ঘুরে দেখার সুযোগ পান। সুচিন্তিত পরিকল্পনা, অভিজ্ঞ ট্যুর ম্যানেজারের সঙ্গ এবং সুপরিকল্পিত ভ্রমণসূচি - সব মিলিয়ে জাপানের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যকে নিশ্চিন্তে, স্বচ্ছন্দে এবং মন ভরে উপভোগ করার সুযোগ করে দেয় এই বিশেষ ট্যুর।
তাই আপনার প্রয়োজন ও পছন্দের সঙ্গে মানানসই ভ্রমণের ধরনটি বেছে নিন, আর জাপানের অমলিন স্মৃতির পথে আজই ফেলুন আপনার প্রথম পদক্ষেপ।
হায়!
এত কিছু জানতামই না!
l জাপানে শরতের রঙিন পাতা দেখার ঐতিহ্যকে বলা হয় ‘মোমিজিগারি’ (Momijigari)। এর আক্ষরিক অর্থ—‘রঙিন পাতা শিকার করা’।
l চেরি ব্লসমের মতোই জাপানে শরতের পাতার রং বদলের পূর্বাভাসও দেশজুড়ে প্রকাশ করা হয়।
l জাপানে রয়েছে শত শত ধরনের ম্যাপল গাছ, যাদের বৈচিত্র্যময় রঙ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শরতের প্রকৃতিকে দেয় নানা রকমের আভা।
l জাপানে স্থানীয়ভাবে জন্মানো ২০টিরও বেশি প্রজাতির ম্যাপল রয়েছে।
l কিয়োটোয় রয়েছে ১,৬০০-রও বেশি বৌদ্ধ মন্দির এবং ৪০০-রও বেশি শিন্তো মন্দির।
l সোনালি জিঙ্কো পাতা জাপানের শরতের এক স্বতন্ত্র পরিচয়।
l নিক্কো জাপানের অন্যতম জনপ্রিয় শরৎকালীন গন্তব্য—যেখানে পাহাড়, জলপ্রপাত এবং প্রাচীন মন্দিরের অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায়।
l মাউন্ট ফুজির কাছের ফাইভ লেকস অঞ্চল ফটোগ্রাফারদের অন্যতম প্রিয় শরৎকালীন গন্তব্য। অক্টোবর-নভেম্বরে এখানকার দৃশ্য হয়ে ওঠে অসাধারণ সুন্দর।
l জাপানে শরতের প্রথম আগমন অনুভব করতে হলে যেতে হবে হোক্কাইডোতে।
l জাপানে শরৎকে বলা হয় ‘ক্ষুধার ঋতু’ (Season of Appetite)-ও, কারণ এই সময় নানা ধরনের মরসুমি খাবারের প্রাচুর্য দেখা যায়।
সিনেমার পর্দায় জাপান!
জাপানের সৌন্দর্য বরাবরই বিশ্বের নানা প্রান্তের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের আকৃষ্ট করেছে। আর শরতের জাপানের মধ্যে রয়েছে এক নিজস্ব সিনেম্যাটিক মায়া। লাল-কমলা ম্যাপল, সোনালি জিঙ্কো, কুয়াশায় মোড়া পাহাড়, শান্ত প্রাচীন মন্দির আর রঙিন পথ—অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত জাপানকে মনে হয় যেন একেবারে তৈরি হয়ে থাকা কোনও সিনেমার সেট।
জাপানের শরতের এই মোহময় রূপ বহু চলচ্চিত্রেও ধরা পড়েছে। ‘Lost in Translation’-এ টোকিওর নীয়ন আলো, ব্যস্ত রাস্তা ও আধুনিক শহুরে জীবনের সঙ্গে কিয়োটোর শান্ত মন্দির ও উদ্যানের দৃশ্য পাশাপাশি এসে গল্পটিকে দিয়েছে এক বিশেষ ভিজ্যুয়াল গভীরতা। ‘Memoirs of a Geisha’-য় কিয়োটোর গিয়ন এলাকা—তার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য, চায়ের ঘর, সরু গলি এবং প্রকৃতির মেলবন্ধন—ছবিটিকে দিয়েছে এক স্বতন্ত্র জাপানি নান্দনিকতা। শরতের লাল-কমলা রঙ সেই সৌন্দর্যকে করে তোলে আরও মোহময়। আর জাপানি ছবি ‘Sweet Bean’ আমাদের সামনে খুলে দেয় অন্য এক কোমল, নিঃশব্দ জাপান। টোকিওর একটি ছোট্ট দোকানকে ঘিরে তৈরি এই শান্ত গল্পটি আমাদের শেখায় প্রকৃতির অতি সামান্য পরিবর্তনগুলিকেও মন দিয়ে দেখতে। ফুটে ওঠা ফুল, ঝরে পড়া শরতের পাতা, ঋতুর সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাওয়া জীবন—ছবিটি দেখতে দেখতে আমরাও যেন সেই পরিবর্তনের মায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যাই।
জাপানি গল্প বলার ঐতিহ্যে প্রকৃতি কখনও নিছক পটভূমি নয়; প্রকৃতি নিজেই গল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তাই জাপানের শরৎকে প্রায়ই মনে হয় কোনও সিনেমার সেট—যেখানে প্রতিটি দিন নিজের মতো করে একটি নতুন গল্প বলে।
এই সিনেম্যাটিক জাপানকে নিজের চোখে, নিজের অনুভবে আবিষ্কার করতে চান? তাহলে আসুন, চলুন জাপান যাই!
জীবনে অন্তত একবার...
এই সব করতেই চাই!
নারার হরিণদের সঙ্গে ম্যাপল গাছের শরতের রঙে হারিয়ে যেতে চাই।
হ্রদের জলে ম্যাপল পাতার রঙিন প্রতিবিম্ব ক্যামেরাবন্দি করতে চাই।
রঙিন শরতের দৃশ্য দেখতে দেখতে অনসেনে ডুবে আরাম করতে চাই।
কিয়োটোর লাল ম্যাপলের ছায়ায় নীরবে হেঁটে বেড়াতে চাই।
আরাশিয়ামার বাঁশবনের মধ্যে দিয়ে হেঁটে প্রকৃতির নিস্তব্ধতাকে অনুভব করতে চাই।
শিনকানসেনের জানালা দিয়ে রঙিন জাপানি গ্রামাঞ্চলের দৃশ্য দেখতে চাই।
জাপানের বিশেষ শরৎকালীন খাবারের স্বাদ নিতে চাই।
নিক্কোর রঙ বদলানো পাহাড়ি অরণ্যের সৌন্দর্য নিজের চোখে দেখতে চাই।
একই ফ্রেমে মাউন্ট ফুজি আর শরতের রঙকে ধরে রাখতে চাই।
কিয়োটোর প্রাচীন মন্দিরগুলির রাতের আলোকসজ্জা দেখতে চাই।
অংশ নিতে চাই ঐতিহ্যবাহী জাপানি চা-অনুষ্ঠানে—যেখানে এক কাপ চায়ের মধ্য দিয়েই অনুভব করা যায় জাপানের গভীর সংস্কৃতি ও নান্দনিকতা।
ভীণা ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আবিষ্কার করুন জাপান। প্রত্যেক ভ্রমণকারীর জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে রোমাঞ্চকর ও আকর্ষণীয় ট্যুর—
আপনার পছন্দ, আপনার স্বপ্ন, আপনার মতো করেই। ভীণা ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে—চলো, ব্যাগ ভরো, বেরিয়ে পড়ো!




































Post your Comment
Please let us know your thoughts on this story by leaving a comment.