আমি অপ্রতিরোধ্য আমি। আমার জগৎ। আমার ভ্রমণ। এখনও কত কিছু করার বাকি।
যখনই ঠিক করি, তখনই বেরিয়ে পড়ি। আমার ভীণা ওয়ার্ল্ড আছে তো!
ভীণা ওয়ার্ল্ড উইমেন্স স্পেশাল
এক ভ্রমণ-পর মহিলারাই নিজেদের করে নিয়েছেন।
যখনই মন চায়…
ব্যাগ ভরো বেরিয়ে পড়ো!
আমি কি পারব? আমি পারব!
এটা যদি আপনার প্রথমবার একা একা ভ্রমণ হয়, তাহলে এই সংশয়গুলো মনে আসবেই। এর আগে কখনও বিমানে উঠিনি। আমি সাবলীলভাবে ইংরেজি বলতে পারি না। এয়ারপোর্টে কী করব? ইমিগ্রেশন? ভিসা? বিদেশি মুদ্রা? আমাদের অনেকেরই মনে একই প্রশ্ন আসে।
কিন্তু মজার ব্যাপারটা হল—একবার বেরিয়ে পড়ার পর, প্রথম এয়ারপোর্ট আর ইমিগ্রেশন পেরিয়ে গেলেই, নতুন একটা দেশে নিজের সবকিছু নিজেই করতে করতে হঠাৎ মনে হয়: ‘আরে বাহ! আমি তো সত্যিই এটা করতে পারি!’ ভ্রমণ শুধু একটা নতুন পৃথিবী দেখার ব্যাপার নয়। এটা নিজের একটা নতুন ‘আমি’-এর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার ব্যাপার।
একা এসেছিলাম... কিন্তু একা থাকিনি!
উইমেন্স স্পেশালে একা আসা আর একা থাকা—দুটো এক জিনিস নয়। প্রথম দিনে আমরা কাউকেই চিনি না। কিন্তু এখানে এসে এমন মেয়েদের সঙ্গে আলাপ হয়, যাদেরও আমাদের মতোই ভ্রমণের নেশা। দু-তিন দিনের মধ্যেই কথাবার্তা জমে যায়, তৈরি হয়ে যায় বন্ধুত্ব। কেউ চা এগিয়ে দেয়। কেউ ছবি তুলে দেয়। পাশাপাশি বসে গল্প হয়। আর দেখতে দেখতে কখন যে আমাদের নিজেদের ছোট্ট একটা দল তৈরি হয়ে যায়, টেরই পাই না। ভীণা ওয়ার্ল্ডের রুমমেট গ্যারান্টি তো আছেই। কিন্তু তার থেকেও সুন্দর ব্যাপারটা কী? একা এসেছিলাম। আর ফিরছি বন্ধুদের সঙ্গে—এই অনুভূতিটাই তো আসল!
এখন আমার মন আমাকে কোথায় নিয়ে যেতে চাইছে?
১। আমার ভেতরের স্বপ্নবাজ মেয়েটি — জাপান • স্ক্যান্ডিনেভিয়া • ইউরোপ
২। আমার ভেতরের অভিযাত্রী — নিউজিল্যান্ড • আফ্রিকা • আন্দামান
৩। আমার ভেতরের পাহাড়ি মেয়েটি — কাশ্মীর • লাদাখ • সুইজারল্যান্ড
৪। আমার ভেতরের অনুসন্ধানী মন — ভিয়েতনাম • মিশর • ভুটান
৫। আমার ভেতরের রোম্যান্টিক মেয়েটি — গ্রিস • মালদ্বীপ • বালি
৬। আমার ভেতরের ভারতপ্রেমী — কেরল • রাজস্থান • উত্তর-পূর্ব
পৃথিবী একটাই। কিন্তু তাকে অনুভব করার, তাকে নিজের মতো করে আবিষ্কার করার পথ কতই না আলাদা!
আমি নিজেই আমার রানি!
আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই একজন রানি আছে। তাঁর মাথায় মুকুট পরিয়ে দেওয়ার জন্য কারও প্রয়োজন নেই। তিনি নিজের মনের, নিজের জীবনের, নিজের পৃথিবীর রানি। আর উইমেন্স স্পেশালে থাকে এমনই একটি সন্ধ্যা, যখন এই ‘আমি’-কে মন খুলে উদ্যাপন করার পালা! নিজের পছন্দমতো সাজুন। র্যাম্পে হাঁটুন। যতটা ইচ্ছে নিজেকে মেলে ধরুন। আর নিজের মতো করে, একেবারে নিজের স্টাইলে বাঁচুন সেই মুহূর্তটা। বয়স, চেহারার মাপ, গায়ের রং, কে কী বলল—এসব নিয়ে ভাবার কোনও দরকার নেই। কারণ আমি নিজেই আমার রানি! আর এই সব রানিদের মধ্য থেকেই ট্যুরের জন্য আমরা বেছে নিই একজন বিশেষ ভীণা ওয়ার্ল্ড কুইন। তাই সাজুন। র্যাম্পে হাঁটুন। নিজের মুহূর্তটা নিজের করে নিন।
এখনও দেখার আছে কত কিছু...
অভিজ্ঞতা লাভ করার আছে কত কিছু।
এখনও কত প্রথম অভিজ্ঞতা
অপেক্ষা করে আছে আমাদের জন্য।
আমাদের তালিকা বাড়তেই থাকবে,
আর তার সঙ্গে বাড়তে থাকবে আমাদের যাত্রাও।
আমার স্বপ্নের তালিকা
☐ পৃথিবীর সাতটি মহাদেশেই ভ্রমণ করা।
☐ নর্দার্ন লাইটস দেখা।
☐ আফ্রিকার বিখ্যাত ‘বিগ ফাইভ’-এর দেখা পাওয়া।
☐ হট এয়ার বেলুনে চড়ে সূর্যোদয় দেখা।
☐ বিশ্বের বিখ্যাত কোনও একটি মনোরম ট্রেনযাত্রার অভিজ্ঞতা নেওয়া।
☐ পৃথিবীর কোনও এক প্রান্তে একটি দুর্দান্ত রোড ট্রিপে বেরিয়ে পড়া।
☐ ২৫টি দেশ ঘোরা।
☐ তারপর ৫০টি দেশ দেখা।
☐ আর একদিন ১০০টি দেশ ভ্রমণের মাইলস্টোনও ছুঁয়ে ফেলা!
সবকিছু আজই হবে না। কিছু হবে এ বছর। কিছু আগামী বছর। কিছু হয়তো কোনও একদিন। কিন্তু আমার তালিকায় যদি থাকে, তাহলে একদিন না একদিন সেটা ঠিকই হবে!
আমার ট্র্যাভেল গ্যাং-এ কারা কারা আছে?
পরের ভ্রমণে আপনার সঙ্গে কে কে যাচ্ছে?
☐ স্কুলের বন্ধুরা ☐ কলেজের বন্ধুর দল
☐ বোন / কাজিনরা ☐ অফিসের বন্ধুরা
☐ মা আর আমি ☐ আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু
☐ পরিবারের মেয়েরা ☐ এখনও যাদের সঙ্গে আলাপ হয়নি, সেই নতুন বন্ধুরা
দল ঠিক হয়ে গেল? এবার গন্তব্যটা বেছে নেওয়া যাক!
আমার পরের প্রথম!
আমরা যতই ভ্রমণ করি না কেন, একটা উত্তেজনা কখনও কমে না—‘প্রথমবার’-এর জন্য সবসময়ই কিছু না কিছু বাকি থেকে যায়!
তাহলে আপনার তালিকায় এখনও কী কী রয়েছে?
☐ প্রথম তুষারপাত ☐ প্রথম ক্রুজ
☐ প্রথম স্কুবা ডাইভিং ☐ প্রথম সাফারি
☐ প্রথম স্কাইডাইভিং ☐ প্রথম হিমবাহে হাঁটা
☐ প্রথম আন্তর্জাতিক ভ্রমণ
☐ প্রথম শুধুই মেয়েদের সঙ্গে ছুটি কাটানো
☐ প্রথম নতুন মহাদেশ
তাহলে বলুন, আপনার পরের ‘প্রথম’টা কী?
আমার পরবর্তী স্বপ্ন
এবার আমি এখানে যাবই।
কবে? এ বছর / আগামী বছর / কোনও একদিন—কিন্তু স্বপ্নপূরণ করবই!
লিখে রাখুন। গোল করে দাগ দিন। এই পাতাটি কেটে তুলে নিজের কাছে রেখে দিন। অথবা স্রেফ নিজেকেই একটা পাকা প্রতিশ্রুতি দিন।
সুনিলা পাতিল
সারা বিশ্ব আহ্বান করছে
সম্প্রতি রাজাধ্যক্ষ শাড়ি-র মা-মেয়ে জুটি সায়লি রাজাধ্যক্ষ ও তাঁর মেয়ে সাভানির সঙ্গে একটি পডকাস্ট রেকর্ড করছিলাম। তাঁরা খুব সুন্দর করে বলছিলেন, গোটা পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে ভ্রমণ করতে তাঁদের কতটা ভালো লাগে। আবার মা-মেয়ের দু’জনে মিলে আলাদাভাবে ঘুরতে যাওয়ার আনন্দটাও তাঁদের কাছে কতটা বিশেষ, সে কথাও বলছিলেন।
ভাগ্যের কী অদ্ভুত পরিহাস, পডকাস্ট রেকর্ড করার সময়ই আমার মেয়ে সারা ফোন করল। ওর গ্র্যাজুয়েশন হয়ে গেছে। তাই জানতে চাইল, আমরা দু’জনে মিলে কি একটা ছুটি কাটাতে যেতে পারি—ইস্তানবুলে!
তার আগের দিনই আমার দেখা হয়েছিল পনেরো জন প্রাণবন্ত বন্ধুর একটি দলের সঙ্গে। তাঁরা ঠিক করেছেন, এই বছরই শেষ পর্যন্ত সবাই মিলে একসঙ্গে ভ্রমণে বেরোবেন। আর মাত্র গত সপ্তাহেই আমি ফিরেছি আইআইএম আমদাবাদ থেকে। সেখানে একটি বিজনেস এডুকেশন প্রোগ্রামে আসা মহিলা উদ্যোক্তারা একটাই কথা নিয়ে আমার কাছে এসেছিলেন: “চলুন না, আমরা সবাই মিলে একটা উইমেন্স ট্রিপে যাই!” আমি যখন জিজ্ঞেস করলাম, কোথায় যাবেন, উত্তরটা এক মুহূর্তেই চলে এল: “যেখানেই হোক! কয়েক দিনের জন্য কোথাও বেরিয়ে পড়ি। মজা করব, সব চিন্তা ভুলে নিজের মতো থাকব, আর জমিয়ে আনন্দ করব।”
এই সব কথাবার্তার মধ্যে একটা বিষয়ই বারবার স্পষ্ট হয়ে উঠছিল—আত্মবিশ্বাস। আজকের মেয়েরা পৃথিবী জয় করার জন্য তৈরি! প্রতি বছর কোথায় ঘুরতে যাওয়া যায়, তা নিয়ে পরিকল্পনা করার সময় আমেরিকায় থাকা আমার স্কুলের সবচেয়ে কাছের বান্ধবীরা বলল, “এখনই যত রকম অ্যাডভেঞ্চার করা যায়, করে নিই। আর কুড়ি বছর পর একটু ধীরেসুস্থে ভ্রমণের দিকে যাব।”
কয়েক বছর আগে আমরা যে বীজটা বুনেছিলাম, আজ তা ডালপালা মেলে এক পূর্ণবয়স্ক গাছে পরিণত হয়েছে—এটা দেখার আনন্দই আলাদা। মেয়েদের ভ্রমণ সত্যিই এখন পরিণত বয়সে পৌঁছেছে। আইসল্যান্ডের হিমবাহের ওপর হাঁটা হোক, কেনিয়ায় সাফারিতে যাওয়া হোক, কিংবা আমাদের নিজের ‘গডস ওন কান্ট্রি’ কেরলের ব্যাকওয়াটারে নৌকো ভাসানো—আমাদের জন্য গোটা একটা পৃথিবী অপেক্ষা করে আছে।
সায়লির সঙ্গে পডকাস্টে আমরা আরও একটা বিষয় নিয়ে কথা বলেছিলাম, যেটা অনেক মহিলা নীরবে নিজেদের মধ্যে বয়ে বেড়ান—অপরাধবোধ। নিজের জন্য কিছু করলে আমাদের অপরাধবোধ হয় কেন? আমাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন, তাঁকে ছাড়া বাড়ির কোনও কিছুই ঠিকমতো চলবে না। কিন্তু মানুষ ধীরে ধীরে মানিয়ে নিতে শেখে। আর কখনও কখনও একটু দূরে সরে দাঁড়ালেই সবাই আবিষ্কার করে, তারা আসলে কতটা নিজের মতো করে সবকিছু সামলাতে পারে! জীবন তো একটাই—জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা।
তাই আজ প্রশ্নটা আর “আমি কি ভ্রমণে যাব?” নয়। আসল প্রশ্ন হল—“আমি কোথায় যাব?” বয়স, জীবনের গল্প কিংবা ভ্রমণের ধরন যেমনই হোক না কেন, ভীণা ওয়ার্ল্ডের উইমেন্স স্পেশাল ট্যুর আপনাকে এমন একটি নিরাপদ, আপন করে নেওয়া পরিবেশ দেয়, যেখানে স্বপ্নগুলোকে স্মৃতিতে পরিণত করা যায়। পৃথিবী ডাকছে। চলুন, একসঙ্গে তাকে আবিষ্কার করি!
আমি তো বেশ আনন্দ করছি... কিন্তু বাড়ির সবাই কেমন আছে?
এই কথাটা আমাদের কতজনেরই না মনে হয়, তাই তো? আমি এখানে আনন্দ করছি—বাড়িতে সব ঠিকঠাক তো? বাচ্চারা ঠিক আছে তো? সবাই ঠিকমতো খেয়েছে তো? এই ভাবনাগুলো যেন কিছুতেই আমাদের পিছু ছাড়তে চায় না। কিন্তু শুনুন—সারা জীবন তো আমরা সবার যত্ন নিয়েই কাটিয়ে দিই। তাই নিজেদের জন্য কয়েকটা দিন বের করে নেওয়া মানে এই নয় যে পরিবারকে আমরা একটু কম ভালোবাসি। বরং বাড়ি ফেরার সময় আমরা থাকি আরও তরতাজা, সঙ্গে থাকে কত গল্প, কত স্মৃতি আর কত ছবি। বাড়ি আমাদের। বাড়ির মানুষগুলোও আমাদের। আর এই ক’টা দিন? এগুলোও তো আমাদেরই!
আমি সিদ্ধান্ত নিলাম। বেরিয়ে পড়লাম।
ওর ছুটি আছে তো? বাচ্চারা সামলাতে পারবে তো? আমার বন্ধুরা সঙ্গে যাবে তো? বাকিদের কী হবে? এমন কত প্রশ্নের মধ্যেই তো কত ভ্রমণের পরিকল্পনা হারিয়ে যায়। তারপর একদিন নিজেকেই একেবারে অন্য একটা প্রশ্ন করলাম—“আমি কোথায় যেতে চাই?” আর আমি ঠিক করে ফেললাম। বুকিং করলাম। বেরিয়ে পড়লাম। ব্যস! কখনও কখনও আসল সাফল্যটা গন্তব্যে পৌঁছনো নয়—নিজের জন্য, নিজেই একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারাটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।
আমার মধ্যে কোন পর্যটক বাস করে?
☐ পাহাড়কন্যা – চোখের সামনে পাহাড়? আমি তো আনন্দে আত্মহারা!
☐ জলকন্যা – সমুদ্রই আমার ভালোবাসা!
☐ ছবির রানি – আগে ছবি, তারপর বাকি সব!
☐ শপিংকন্যা – একটু শপিং তো করতেই হবে!
☐ খাবারসন্ধানী – নতুন জায়গা, নতুন স্বাদ!
☐ অ্যাডভেঞ্চারকন্যা – রোমাঞ্চ? আমি আছি!
☐ নানা দেশের স্মারক সংগ্রাহক – পাসপোর্টে আরও একটা স্ট্যাম্প চাই!
☐ গার্ল গ্যাং পর্যটক – আড্ডা, বন্ধু, মজা!
☐ বিলাসপ্রেমী – কিছু একটা স্পেশাল না হলে চলে?
একাধিক উত্তর হতে পারে? অবশ্যই! কারণ আমরা তো কখনও শুধু এক ধরনের নই, তাই না?



































Post your Comment
Please let us know your thoughts on this story by leaving a comment.