We're open, now in Nagpur, HSR Layout (Bengaluru) & Salt Lake (Kolkata). Locate Us
We're open, now in Nagpur, HSR Layout (Bengaluru) & Salt Lake (Kolkata). Locate Us
USA

Explore Veena World Travel Stories

  • Travel Inspiration
  • Destination Guides
  • Travel Tips

অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড

13 mins. read
Sunila Patil
Sunila Patil
13 Mins Read
August 31, 2026
August 31, 2026

Quick Summary

ক্যানবেরার পার্লামেন্ট হাউসের ছাদে ক্যাফেতে বসে নিচের সিদ্ধান্তের কেন্দ্রটা কাছ থেকে দেখুন।

সিডনি অপেরা হাউস ও হারবার ব্রিজে সূর্যাস্তের আলো ধীরে নামার মুহূর্তটা মিস করবেন না।

গ্রেট ওশান রোডে খাড়া পাহাড় আর দক্ষিণ মহাসাগরের বিস্তার একসঙ্গে উপভোগ করুন।

ফিলিপ আইল্যান্ডে সন্ধ্যায় পেঙ্গুইনদের ঘরে ফেরার সারি সারি দৃশ্য দেখুন।

কুইন্সটাউনে দিনে বাঞ্জি জাম্পিং আর রাতে লেক ওয়াকাটিপুরের ধারে আগুনের উষ্ণতায় আরাম করুন।

ভীণা ওয়ার্ল্ডের ৯ দিনের সিনিয়র’স স্পেশাল ট্যুরে সিডনি, গোল্ড কোস্ট, কেয়ার্নস, মেলবোর্ন ও গ্রেট ওশান রোডে তাড়াহুড়োহীনভাবে ঘুরুন।

বন্য বিস্ময়, নীরব রোম্যান্স

 

কিছু ভ্রমণ শুরু হয় কোনও এক অসাধারণ দৃশ্য দিয়ে। আমারটা শুরু হয়েছিল দুপুরের খাবারের টেবিলে - অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায়, পার্লামেন্ট হাউসের ছাদে অবস্থিত এক ক্যাফেতে বসে। নীচে তাকিয়ে দেখছিলাম সেই ভবন, সেই কক্ষগুলি, যেখানে একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়। এটাই অস্ট্রেলিয়া - যে দেশ আপনাকে তার একেবারে অন্তরে ঢুকে পড়ার সুযোগ দেয়। সে দেশের ‘পিপলস হাউস’ হোক কিংবা আউটব্যাকের আদিম, বুনো হৃদয় - সবকিছুই যেন আপনার জন্য উন্মুক্ত।

সিডনি অপেরা হাউস - লক্ষ লক্ষ সাদা টালিতে সূর্যের আলো ঝিলমিল করছে, আর হারবার ব্রিজের গায়ে সন্ধ্যার আলো ধীরে ধীরে নেমে আসছে। গ্রেট ওশান রোড - একদিকে খাড়া পাহাড়, অন্যদিকে দক্ষিণ মহাসাগরের অবারিত বিস্তার। একইসঙ্গে পৃথিবীর বৃহত্তম যুদ্ধস্মারকগুলির অন্যতম। ফিলিপ আইল্যান্ডে সন্ধে নামলেই ছোট্ট পেঙ্গুইনদের সারি সারি ঘরে ফেরার দৃশ্য। কখনও ক্যাঙ্গারু, কখনও কোয়ালা, আর ভাগ্য ভালো হলে দেখা মিলতে পারে প্ল্যাটিপাসেরও। অস্ট্রেলিয়া শুধু নিজেকে আপনার সামনে মেলে ধরে না - সে আপনাকে তার গল্পের অংশ করে নেয়।

তাসমান সাগর পেরোলেই বদলে যায় গল্পের সুর - বিস্ময় থেকে তা ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে রোম্যান্স। নিউজিল্যান্ডে হাইওয়ের উপর দিয়ে ধীর পায়ে হেঁটে যাওয়া এক পাল ভেড়াই যেন আপনার স্বাগত জানাতে হাজির হয়। আর রাস্তার প্রতিটি বাঁক মনে হয় কোনও পোস্টকার্ডের ছবি। কুইন্সটাউন রোমাঞ্চ আর অন্তরঙ্গতাকে একসঙ্গে মিশিয়ে দেয় - দিনের আলোয় বাঞ্জি জাম্পিং, আর রাত নামলে লেক ওয়াকাটিপুরের ধারে আগুনের উষ্ণতায় ঘেরা নিরিবিলি লজ। ওয়ানাকা এনে দেয় এমন এক নিস্তব্ধতা, মনে হয় চারপাশের পাহাড়ও যেন নিঃশ্বাস আটকে আছে। মিলফোর্ড সাউন্ড উঠে আসে পাহাড় আর জলপ্রপাতের এক বিশাল প্রাকৃতিক ক্যাথিড্রালের মতো। আর কাইকৌরায়, নৌকার ঠিক পাশেই যখন জলের বুক চিরে উঠে আসে এক বিশাল স্পার্ম হোয়েল, সেই মুহূর্তটি ভ্রমণ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও থেকে যায় স্মৃতির গভীরে।

দুটি দেশ, দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছন্দ - একটি যেন আবিষ্কারের জন্য তৈরি, অন্যটি আপন করে নেওয়ার জন্য। অথচ দু’দেশই আমাকে একই কথা শিখিয়েছে - ভ্রমণ মানে দূর থেকে কোনও বিখ্যাত স্থানের ছবি তুলে ফিরে আসা নয়, বরং তার ভিতরে প্রবেশ করা - তার সংস্কৃতির ভিতরে, তার প্রকৃতির ভিতরে, তার অনুভূতির ভিতরে।

ভীণা ওয়ার্ল্ডে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের ভ্রমণের প্রতিশ্রুতিও ঠিক সেটাই - এমনভাবে পরিকল্পিত সফর, যেখানে আপনি শুধু দু’টি দেশকে দেখবেন না, সত্যিই অনুভব করবেন। কখনও পরিবারের সঙ্গে ক্যাঙ্গারু আর গ্লোওয়ার্মের খোঁজে, কখনও প্রিয় মানুষের হাত ধরে পাহাড়চূড়া আর তারাভরা আকাশের নীচে - ডাউন আন্ডারের আসল গল্পটা শুরু হোক এখান থেকেই।

 

 

সিনিয়রদের জন্য স্পেশাল

জীবনের সোনালি অধ্যায়। দারুণ সব অভিযান।

 

যেকোনও বয়সেই অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ সম্ভব। ভীণা ওয়ার্ল্ডের ৯ দিনের সিনিয়র’স স্পেশাল ট্যুরে রয়েছে সিডনি, গোল্ড কোস্ট, কেয়ার্নস, মেলবোর্ন এবং গ্রেট ওশান রোড। আরামকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বেছে নেওয়া হোটেল, তাড়াহুড়োহীন ভ্রমণসূচি, ভারতীয় খাবারের স্বাদ এবং এমন একজন ট্যুর ম্যানেজার, যিনি প্রতিটি সদস্যের ব্যক্তিগত সুবিধা-অসুবিধার দিকে নজর রাখেন। পেঙ্গুইনদের ঘরে ফেরার সেই অপূর্ব দৃশ্য। হারবার ক্রুজে ভেসে চলা। রেইনফরেস্টের সবুজ গভীরে হারিয়ে যাওয়া। এসব অভিজ্ঞতার জন্য বয়স কোনও বাধা নয়। দরকার শুধু একটাই জিনিস - সেখানে থাকার ইচ্ছেটুকু।

 

 

লাইটস।

ক্যামেরা। ভ্রমণ।

 

দিল চাহতা হ্যায় ভারতীয় দর্শককে অস্ট্রেলিয়ার এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছিল - সিডনি অপেরা হাউস ও হারবার ব্রিজের পটভূমিতে চিত্রায়িত ‘জানে কিউঁ’-এর মাধ্যমে। সালাম নমস্তে ছিল অস্ট্রেলিয়ায় সম্পূর্ণ ভাবে চিত্রায়িত প্রথম ভারতীয় ছবি। সেই ছবির সূত্রেই মেলবোর্ন এবং গ্রেট ওশান রোড লক্ষ লক্ষ ভারতীয় দর্শকের কাছে হয়ে উঠেছিল চেনা এক ভূগোল। চক দে ইন্ডিয়া এবং বচনা অ্যায় হাসিনো-ও সিডনিকে জায়গা করে দিয়েছিল ভারতীয় দর্শকের আবেগের মানচিত্রে।

নিউজিল্যান্ডের ক্ষেত্রে কহো না... প্যায়ার হ্যায় কুইন্সটাউনকে পৌঁছে দিয়েছিল ভারতীয় ঘরের বসার ঘরে। আর দ্য লর্ড অফ দ্য রিংস গোটা নিউজিল্যান্ডকেই পরিণত করেছিল এক অনন্য সিনেমাটিক ভূদৃশ্যে - যে দেশকে দর্শকেরা ভালবেসে ফেলেছিলেন, তার অবস্থান পৃথিবীর মানচিত্রে ঠিক কোথায়, তা জানার আগেই।

তাই এই সব জায়গায় যখন সত্যিই দাঁড়ান, অনুভূতিটা অদ্ভুত রকমের পরিচিত। মনে হয়, কোনও অচেনা দেশে এসে পৌঁছননি - বরং বহুদিন ধরে চেনা, বহুদিন ধরে দেখা কোনও এক জায়গায় অবশেষে এসে পৌঁছেছেন।

 

স্বাদের সফর

         

সিডনির হারবারের ধারে বসে সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ নেওয়া - পিছনে সোনালি আলোয় ঝলমল করছে অপেরা হাউস। মেলবোর্ন, যে শহর বিশ্বকে শিখিয়েছে আসল ফ্ল্যাট হোয়াইট কফির স্বাদ কেমন হওয়া উচিত। এমসিজিতে খেলা দেখতে দেখতে এক কামড় মিট পাই। কুইন্সল্যান্ডে আগুনে ঝলসানো বারামুন্ডি।

নিউজিল্যান্ডে পৌঁছে মার্লবরোর সোভিনিয়ঁ ব্লঁ-এর জন্যই যেন এতটা পথ পাড়ি দেওয়া সার্থক। আর দক্ষিণের আল্পস চোখের সামনে রেখে কোনও ওয়াইনারিতে বসে দুপুরের খাবার - তার চেয়ে সুন্দর বিকেল আর কী-ই বা হতে পারে!

অস্ট্রেলিয়া না নিউজিল্যান্ড - পাভলোভা আসলে কার? এই বিতর্কের বোধহয় কোনও দিনই মীমাংসা হবে না। আর মাওরি হাঙ্গি - মাটির নীচে তৈরি বিশেষ উনুনে ধীরে ধীরে রান্না করা খাবার - আপনাকে ছুঁইয়ে দেয় এমন এক খাদ্যঐতিহ্যের সঙ্গে, যার শিকড় আপনি পৃথিবীর আর কোনও রান্নাঘরে এত গভীরে খুঁজে পাবেন না।

এখানে খাওয়া শুধু খাওয়া নয়। প্রতিটি পদই যেন একটি ভূদৃশ্য, একটি সংস্কৃতি, একটি গল্পের স্বাদ।

 

 

পৃথিবীর নবীনতম মহাদেশ

এবং এক নাটকীয় দ্বীপপুঞ্জ।

 

অস্ট্রেলিয়ার গল্প শুরু হয় আজ থেকে প্রায় ৬৫,০০০ বছর আগে। আবোরিজিনাল এবং টরেস স্ট্রেট আইল্যান্ডার জনগোষ্ঠীর হাত ধরে গড়ে ওঠা সেই সংস্কৃতি পৃথিবীর প্রাচীনতম নিরবচ্ছিন্ন জীবন্ত সভ্যতা - প্রাচীন মিশরেরও আগে যার সূচনা। সেই উত্তরাধিকার আজও বেঁচে আছে তাঁদের শিল্পে, আচার-অনুষ্ঠানে, আর লাল মাটির সঙ্গে মিশে থাকা তাঁদের জীবনবোধে। নিউজিল্যান্ডের গল্পের শুরু আরও পরে, প্রায় ১২৫০ খ্রিস্টাব্দে, যখন পলিনেশীয় নাবিকেরা আবিষ্কার করেছিলেন এমন এক দ্বীপপুঞ্জ, যা মানুষের পদচিহ্নের আগেই যেন প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মে গড়ে উঠেছিল। দুটি দেশ, দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ইতিহাস - অথচ দুটিই সমান বিস্ময়কর।

ভূগোলেও যেন চরম বৈপরীত্যের খেলা। পৃথিবীর একমাত্র দ্বীপ-মহাদেশ অস্ট্রেলিয়ার বুকে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম প্রবালপ্রাচীর, প্রাচীনতম রেইনফরেস্টগুলির কিছু অংশ এবং সেই কিংবদন্তিতুল্য লাল মরুভূমি। আর নিউজিল্যান্ড যেন এক নাটকীয় প্রাকৃতিক মঞ্চ - এক ভূখণ্ডের মধ্যেই আগ্নেয়গিরি, ধোঁয়া ওঠা ভূ-তাপীয় উপত্যকা, গভীর ফিয়র্ড এবং বরফে ঢাকা হিমবাহ। মাঝখানে শুধু তাসমান সাগরের বিস্তার। তবু দুটিকে মনে হয় একই অবিশ্বাস্য গল্পের পাশাপাশি লেখা দুটি অধ্যায়।

সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও তাদের নিজস্ব স্বর স্পষ্ট। অস্ট্রেলিয়ার শহরগুলি পৃথিবীর অন্যতম বহুসাংস্কৃতিক ও বিশ্বনাগরিক নগরজীবনের উদাহরণ। অন্য দিকে, নিউজিল্যান্ডের মাওরি সংস্কৃতি কোনও জাদুঘরে সংরক্ষিত অতীত নয় - তা আজও জীবন্ত ভাষায়, ঐতিহ্যে, আর প্রতিটি অল ব্ল্যাকস ম্যাচের আগে উচ্চারিত হাকা-য়। সময়ের সঙ্গে সেই সংস্কৃতিকে ঘিরে জাতীয় গর্বও আরও গভীর হয়েছে। আর এই দুই দেশ নীরবে পৃথিবীকে দিয়েছে ওয়াই-ফাই, বিমানের ব্ল্যাক বক্স, পাভলোভা এবং ফ্ল্যাট হোয়াইটের মতো নানা উদ্ভাবন ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার।

তার উপর আছে উৎসব আর উদ্‌যাপনের এমন এক ক্যালেন্ডার, যেখানে কোনও ঋতুই যেন ফাঁকা থাকে না। প্রতি মে ও জুনে সিডনির ভিভিড ফেস্টিভ্যাল আলোয় বদলে দেয় গোটা হারবারের চেহারা। নিউজিল্যান্ডে ২০২২ সালে সরকারি ছুটির মর্যাদা পাওয়া মাতারিকি আজ আরও গভীর গর্বের সঙ্গে উদ্‌যাপিত হয়। নভেম্বর এলেই মেলবোর্ন কাপ-এর উত্তেজনায় মেতে ওঠে গোটা দেশ। আর আছে ক্রিকেট - যে খেলা ভারত ও অস্ট্রেলিয়াকে এক অদ্ভুত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বারবার মুখোমুখি দাঁড় করায়। যেখানে ক্রিকেট ম্যাচের চেয়ে অনেক সময় বড় হয়ে ওঠে দুই দেশের মানুষের ভাগ করে নেওয়া এক সাংস্কৃতিক আবেগ।

দুই দেশ। দু’টি সম্পূর্ণ আলাদা গল্প

অস্ট্রেলিয়া: সিডনি ● গোল্ড কোস্ট ● কেয়ার্নস ● মেলবোর্ন ● ক্যানবেরা

  • পার্থ ● অ্যাডিলেড ● গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ ● গ্রেট ওশান রোড
  • ১২ অ্যাপোস্টলস ● ব্লু মাউন্টেনস ● ফিলিপ আইল্যান্ডের পেঙ্গুইন প্যারেড ● কুরান্ডা রেইনফরেস্ট ● আবোরিজিনাল সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা ● সিডনি অপেরা হাউস

নিউজিল্যান্ড: অকল্যান্ড ● রোটোরুয়া ● টাউপো ● ওয়েলিংটন ● ক্রাইস্টচার্চ ● কুইন্সটাউন ● গ্রেমাউথ মিলফোর্ড সাউন্ড ● ওয়াইতোমো গ্লোওয়ার্ম গুহা ● হবিটন মুভি সেট ● ট্রান্সঅ্যালপাইন ট্রেন ● মাওরি সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা

  • কাইকৌরায় তিমি দর্শন ● মার্লবরোর আঙুর-বাগান

 

 

 

দুই অসাধারণ ভূখণ্ডের গল্প

দুই দেশ। দুই স্বতন্ত্র সত্তা। একটি সফর, যা বদলে দেয় অনেক কিছু।

সিডনিতে অপেরা হাউস যেন এমন এক ভাস্কর্য, যা শিল্প হওয়া থামাতেই ভুলে গেছে। গ্রেট ওশান রোড যেন তৈরি হয়েছে শুধু একটি কাজের জন্য - গাড়ি থামিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ুন, আর মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকুন। ২,৩০০ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ - মহাকাশ থেকেও যার অস্তিত্ব চোখে পড়ে। আর মেলবোর্ন? গলির দেওয়ালজুড়ে শিল্পের উচ্ছ্বাস, সঙ্গে এমন এক আন্তরিক উষ্ণতা, যেন এই শহরে আপনি নতুন কেউ নন - বহুদিনের পরিচিত।

নিউজিল্যান্ডের ছন্দ সম্পূর্ণ অন্যরকম। মেঘের ভিতর থেকে উঠে আসা খাড়া পাহাড়ের দুই প্রাচীরের মাঝখানে মিলফোর্ড সাউন্ড যেন প্রকৃতির নিজস্ব এক মহাকাব্য। ওয়াইতোমোর গ্লোওয়ার্ম গুহার অভিজ্ঞতা ভাষায় পুরোপুরি ধরা যায় না - সেটি শুধু মনে থেকে যায়। একই বিকেলে কুইন্সটাউন আপনাকে দিতে পারে জেট-বোটের রোমাঞ্চ, গন্ডোলা রাইডের আকাশপথ আর বিশ্বমানের ওয়াইনের স্বাদ। আর জীবন্ত মাওরি সংস্কৃতি নিউজিল্যান্ডের ভূদৃশ্যের সঙ্গে মিশিয়ে দেয় এমন এক আধ্যাত্মিক গভীরতা, যা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্য কোনও গন্তব্যে এত তীব্র ভাবে অনুভব করা যায় না।

 

 

প্রতিটি ভারতীয়ের ‘ডাউন আন্ডার স্টোরি’ যেখানে শুরু  

 

কাস্টমাইজড হলিডেজ: গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে একান্ত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ড জুড়ে নিজের গাড়িতে পথ চলা। গোল্ড কোস্ট ও হবিটনকে মিলিয়ে পরিবারের জন্য একটি বিশেষ সফর। কুইন্সটাউন ও মিলফোর্ড সাউন্ড ঘিরে হানিমুন। ফ্যামিলি ফান, রোমান্টিক হলিডেজ, লাক্সারি স্টে, হিডন জেযে এবং সেলফ ড্রাইভ—যে ভাবেই ভ্রমণ করতে চান, আপনি কী অনুভব করতে চান, সেই ইচ্ছেকে কেন্দ্র করেই ভীণা ওয়ার্ল্ড সাজিয়ে দেয় আপনার সম্পূর্ণ যাত্রাপথ।

মাইস ও কর্পোরেট গ্রুপ- সিডনি অপেরা হাউসকে পটভূমিতে রেখে একটি লিডারশিপ সামিট। রাতের আলোয় ঝলমলে শহরের স্কাইলাইনের সামনে ২০০ জন প্রতিনিধিকে নিয়ে হারবার ক্রুজ। আপনার ডেলিগেশনের জন্য একটি মাওরি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। ৩৫০টিরও বেশি সংস্থার ২০ থেকে ২,০০০ প্রতিনিধির সফর পরিচালনা করেছে ভীণা ওয়ার্ল্ড - প্রতিটি খুঁটিনাটি সুনিপুণ ভাবে পরিচালিত, প্রতিটি স্মৃতি যত্নে অর্জিত।

গ্রুপ ট্যুর- আপনার হাতে ৭ দিনই থাকুক বা ২১ দিন, ভীণা ওয়ার্ল্ডের অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড গ্রুপ ট্যুর তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মাত্রায় অভিজ্ঞতা অর্জনের কথা মাথায় রেখে। প্রথম দিন থেকেই সঙ্গে ট্যুর ম্যানেজার, ভারতীয় খাবারের ব্যবস্থা, ভিসা সংক্রান্ত সহায়তা, ভারতের বিভিন্ন শহর থেকে যাত্রার সুযোগ - বেছে নেওয়ার জন্য রয়েছে অসংখ্য বিকল্প।

উইমেন্স স্পেশাল-অনেক মহিলার কাছে একটি উইমেন্স স্পেশাল ট্যুরই অস্ট্রেলিয়া দেখার স্বপ্নপূরণের প্রথম ধাপ। ভীণা ওয়ার্ল্ডের ৯ দিনের উইমেন্স স্পেশাল অস্ট্রেলিয়া তৈরি হয়েছে মহিলারা যেভাবে ভ্রমণ করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন, ঠিক সেই ভাবেই - নিরাপদ, আন্তরিক, সুচিন্তিত গতির সফর, সঙ্গে উইমেন্স স্পেশাল গ্রুপের জন্য বিশেষ ভাবে নির্বাচিত একজন ট্যুর ম্যানেজার। ভ্রমণের মধ্যবর্তী সময়ে আপনি নিজে কী হয়ে উঠলেন, সেটিও ভ্রমণের অংশ।

 

মাওরি ঐতিহ্য

মাওরি সংস্কৃতি নিউজিল্যান্ডের আত্মারই প্রতিচ্ছবি। তাদের শক্তিশালী ঐতিহ্যবাহী নৃত্য হাকা শক্তি, গর্ব ও ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক। উৎসব থেকে শুরু করে নানা আনুষ্ঠানিক আচার-অনুষ্ঠান - সর্বত্রই হাকা আজও নিউজিল্যান্ডের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে ধারণ করে চলেছে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম বয়ে নিয়ে চলেছে মাওরি ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার।

 

ওহ, দারুণ!

এসব তো জানতামই না!

 

  • অস্ট্রেলিয়াই পৃথিবীর একমাত্র দেশ, যা একই সঙ্গে একটি সম্পূর্ণ মহাদেশ - তিনটি মহাসাগর দিয়ে ঘেরা।
  • প্রায় ১২৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডে মানুষের বসতি ছিল না। পৃথিবীর শেষ বৃহৎ ভূখণ্ডগুলির মধ্যে এটিই ছিল মানুষের বসতি স্থাপিত শেষ অঞ্চলগুলির একটি। সেই কারণেই সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ আজও এতটাই বিস্ময়কর ভাবে অক্ষত।
  • গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ পৃথিবীর বৃহত্তম জীবন্ত কাঠামো। ৯,০০০-এরও বেশি প্রজাতির আবাসস্থল এই প্রবালপ্রাচীর মহাকাশ থেকেও দেখা যায়।
  • ওয়াইতোমো গ্লোওয়ার্ম গুহা আলোকিত হয় Arachno campa luminosa নামের এমন এক প্রজাতির জোনাকির আলোয়, যা পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না। তাদের তৈরি সূক্ষ্ম আলোকিত সুতোয় গুহার ছাদটি মনে হয় যেন জীবন্ত এক রাতের আকাশ।
  • অস্ট্রেলিয়ার আবোরিজিনাল সংস্কৃতির ইতিহাস অন্তত ৫০,০০০ বছরের পুরনো। এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম নিরবচ্ছিন্ন জীবন্ত সংস্কৃতি - মিশরের পিরামিডেরও কয়েক হাজার বছর আগে যার শিকড় প্রোথিত।
  • ১৮৯৩ সালে নিউজিল্যান্ডই বিশ্বের প্রথম দেশ, যেখানে মহিলারা ভোটাধিকার পেয়েছিলেন - আমেরিকার ২৭ বছর আগেই।

 

জীবনে অন্তত এক বার…

এগুলি করবই করব !

 

  • সূর্যাস্তের সময় সিডনি হারবার ব্রিজ থেকে অপেরা হাউসকে সোনালি আলোয় ঝলমল করতে দেখা।
  • গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের উপর স্নরকেলিং করে অনুভব করা, কেন সমুদ্রকে ‘নীল গ্রহ’ বলা হয়।
  • গ্রেট ওশান রোড ধরে গাড়ি চালিয়ে ১২ অ্যাপোস্টলসের কাছে গাড়ি থামানো, যখন অনেক নীচে আছড়ে পড়ছে সমুদ্রের ঢেউ।
  • ফিলিপ আইল্যান্ডে সূর্য ডোবার সময় হাজার হাজার পেঙ্গুইনকে দুলতে দুলতে তীরে ফিরে আসতে দেখা।
  • ওয়াইতোমো গ্লোওয়ার্ম গুহার ভিতর ভেসে চলা, মাথার উপরে যখন হাজার নীল আলো জ্বলে থাকে।
  • হবিটন মুভি সেটে গিয়ে সত্যিই যেন দ্য শায়ার-এর ভিতরে পা রাখা।
  • ভোরের আলোয় মিলফোর্ড সাউন্ডে ক্রুজ করা - যখন ফিয়র্ডের উপর কুয়াশার আস্তরণ, আর জলপ্রপাতগুলি পূর্ণ শক্তিতে নেমে আসছে।
  • তে পুইয়ায় একটি মাওরি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দেখা এবং বুকের ভিতর থেকে অনুভব করা হাকা-র তীব্রতা।

 

আপনার সহযাত্রী - ভীণা ওয়ার্ল্ডের ট্যুর ম্যানেজার

আমি জানি, পেঙ্গুইন প্যারেড দেখতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে একটু আগেই পৌঁছনো জরুরি। জানি, ১২ অ্যাপোস্টলসের উপর দিয়ে হেলিকপ্টারে উড়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা প্রতি মুহূর্তের অপেক্ষাকে সার্থক করে। জানি, তে পুইয়ার মাওরি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সামনের সারি থেকে দেখার আনন্দই আলাদা। দুই অসাধারণ দেশের বিস্তীর্ণ পথ পেরোতে পেরোতে কোথায় কতটা সময় দিতে হবে, কী ভাবে সফরের গতি ঠিক রাখলে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতার সময় আপনি থাকবেন সম্পূর্ণ প্রস্তুত - ক্লান্তিতে অবসন্ন নয়, সেই হিসেবটাও আমার জানা। সঙ্গে ভারতীয় খাবার, ভিসা সংক্রান্ত সহায়তা এবং প্রতিটি প্রয়োজনের দিকে নজর। ভীণা ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আপনার সঙ্গে থাকবে শুধু যাওয়ার উত্তেজনা। বাকি সবটা আমরা সামলে নেব।

Post your Comment

Please let us know your thoughts on this story by leaving a comment.

Get in touch with us

Share your details for a call back and subscribe to our newsletter for travel inspiration.

+91

Listen to our Travel Stories

You May also like

View all
ভীণা ওয়ার্ল্ড উইমেন্স স্পেশাল আমি। আমার জগৎ। আমার ভ্রমণ।
13 mins, read

ভীণা ওয়ার্ল্ড উইমেন্স স্পেশাল আমি। আমার জগৎ। আমার ভ্রমণ।

আমি অপ্রতিরোধ্য আমি। আমার জগৎ। আমার ভ্রমণ। এখনও কত কিছু করার বাকি।  যখনই ঠিক করি, তখনই বেরিয়ে পড়ি। আমার ভীণা ওয়ার্ল্ড আছে তো! ভীণা ওয়ার্ল্ড উইমেন্স স্পেশাল এক ভ্রমণ-পর মহিলারাই নিজেদের করে নি

মহাপ্রাচীর থেকে উন্নতির চূড়ায়  চিন কল্পনার জন্য নয়, অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য।
13 mins, read

মহাপ্রাচীর থেকে উন্নতির চূড়ায় চিন কল্পনার জন্য নয়, অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য।

Published in ABP 19th July 2026 নি হাও! “কিন্তু আমি তো নিরামিষাশী!”—চিনে ছুটি কাটাতে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার পর এক অতিথির কাছ থেকে এই ছিল প্রথম প্রতিক্রিয়া। তিনি এবং তাঁর মেয়ে দু’জনেই খুব উৎসাহি

দুবাই এবং আবু ধাবি: যেখানে প্রতিবার ভ্রমণই মনে হয় প্রথমবার
13 mins, read

দুবাই এবং আবু ধাবি: যেখানে প্রতিবার ভ্রমণই মনে হয় প্রথমবার

Published in the Sunday Anandabazar Patrika(ABP) on 26 January, 2025 সম্প্রতি, একজন বন্ধু একটি সহজ কিন্তু চ্যালেঞ্জিং অনুরোধ করেছে: তার একটি দ্রুত আন্তর্জাতিক ফ্যামিলি ট্যুরের আইডিয়া দরকার। গন্তব্য

Veena World tour reviews

What are you waiting for? Chalo Bag Bharo Nikal Pado!